নিজস্ব প্রতিবেদক
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সন্তানকে বড় করেছিলেন, আজ সেই সন্তানের হাতেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হলো বৃদ্ধ পিতা মো. আজগার আলীকে। শুধু ভরণপোষণ ও চিকিৎসার খরচ বন্ধ করাই নয়, বসতভিটা নিজের নামে লিখে নিতে বৃদ্ধ বাবার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খোদ ছেলের বিরুদ্ধে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে। নিষ্ঠুর এই আচরণের প্রতিকার চেয়ে অবশেষে নিজের জন্মদাতা ছেলে মিন্টু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় পিতা। আজ বুধবার (১ জুলাই) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মো. আজগার আলী পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক। বহু কষ্টে ছেলে মিন্টু বিশ্বাসকে লালন-পালন করে বড় করলেও পরিণতি হয়েছে চরম অবমাননাকর। বেশ কিছুদিন ধরে ছেলে মিন্টু তার বৃদ্ধ বাবার ভরণপোষণ, চিকিৎসা বা বেঁচে থাকার ন্যূনতম খরচ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টো বাবার শেষ সম্বল বসতভিটার জমিটুকু নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
গত ২৫ জুন সকালে যখন মো. আজগার আলী ঘরে বসে সকালের খাবার খাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ছেলে মিন্টু। আবারও দাবি তোলে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার। বৃদ্ধ বাবা এতে অস্বীকৃতি জানালে মুহূর্তেই হিংস্র হয়ে ওঠে ছেলে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে বাবার গলায় থাকা গামছাটি পেঁচিয়ে ধরে সে। এরপর সেই গামছা ধরে টানতে টানতে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
বৃদ্ধ বাবার আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে লোকলজ্জা আর আইনি ভয়ে মিন্টু বাবাকে ছেড়ে দেয়। তবে যাওয়ার আগে প্রাণনাশের হুমকি দিতে ভুল করেনি। পরবর্তীতে এই অমানবিক ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়ে শেষ বয়সে নিজের সন্তানের বিচার চেয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হন এই পিতা।