নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের আরবপুর মোড়ে অবস্থিত ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’-এ সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন অস্বীকারের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের আরবপুর মোড়ে অবস্থিত ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’-এ সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন অস্বীকারের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবলু তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী বাবলু তালুকদার জানান, ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় মরহুম সরদার সাহেবের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে জায়গা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরে জমি ক্রয় বাবদ বিভিন্ন সময়ে তিনি মরহুম সরদার সাহেবকে মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু চলতি বছর সরদার সাহেবের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা পূর্বের এই বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। ৩৬ লাখ টাকার লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করলেও তা ওয়ারিশরা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ মে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল লোহার রড, শাবল ও হাতুড়ি নিয়ে তার কারখানায় অনধিকার প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কারখানার বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সরঞ্জাম, অফিস কক্ষ ও স্থাপনা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী এই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পর বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তীব্র নিন্দা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী বাবলু তালুকদার প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— মরহুম সরদার সাহেবের সঙ্গে সম্পাদিত ৩৬ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি স্বীকৃতি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার ন্যায্য ক্ষতিপূরণসহ মালিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, যশোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি সিরাজ খান (মিন্টু), সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, সদস্য মো. আবদুল হামিদ, প্রচার সম্পাদক মো. আবদুল জলিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শেখ শাহাদত এবং অর্থ সম্পাদক মো. নিবাতুল হক। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের জোরালো সহযোগিতা কামনা করা হয়।