নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদুল আজহার খুশির আবহে উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের হাতে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি তুলে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, কোরবানির আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং বর্জ্য অপসারণ নিয়ে সরকারের অবস্থান ও প্রস্তুতি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "লাইসেন্সবিহীন গাড়ি কোনোভাবেই আমাদের উঠতি বয়সী সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। ঈদের আনন্দের এই সময়ে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই সন্তানদের রক্ষা করতে এবং সড়ক নিরাপদ রাখতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। ফলে পরিকল্পিত লোডশেডিং করার কোনো সুযোগ বা প্রয়োজন নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ক্ষতি হয়েছে। সেই সাময়িক বিভ্রাটগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।"
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মুসল্লিরা। প্রধান জামাতে খুতবা পাঠ ও ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল মান্নান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কোরবানির মূল চেতনা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "মুসলমানরা শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করবে না, একই সাথে মনের ভেতরের পশুত্বকেও কোরবানি করতে হবে। তবেই আমরা একটি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।"
যশোর শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "পৌর কর্তৃপক্ষ বিকেল ৪টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি পৌরবাসীকে অনুরোধ করব, আপনারা দুপুর ২টার মধ্যে নিজ নিজ বাসাবাড়ির বর্জ্য নিকটস্থ ডাস্টবিনে ফেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত কাজ শেষ করতে সহায়তা করুন।"