নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। ভূমিকম্পের প্রভাবে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) ও স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। কম্পনটি বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার কিছু অংশে অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি ৫.৪ মাত্রার বা মাঝারি ভূমিকম্প ছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে এটি অনুভূত হয় বলেও জানানো হয়েছে।
এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮৮ কিলোমিটার দূরে খুলনার সাতক্ষীরা জেলার আশাসুনি উপজেলায় দেখানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএসে এটি ৫.৩ মাত্রার বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে আইফোনের অ্যালার্ট সিস্টেমে এটি রিখটার স্কেলে ৫.৪ ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের তথ্য দেখা যাচ্ছিলো। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটির ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে এটি হয়েছে বলে তথ্য দিচ্ছে ইউএসজিএস।
যশোর ও তার আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই কম্পনে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঝিনাইদহ ও যশোরের কিছু পুরনো ভবনে হালকা ফাটল ধরার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।
যশোর শহরের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুপুরের জুম্মার নামাজের পরপরই ঘরের আসবাবপত্র প্রবলভাবে দুলতে শুরু করলে তারা দ্রুত পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূল কম্পনের পর ছোট ছোট কিছু 'আফটারশক' বা মৃদু কম্পন হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কোনো দুর্বল বা ফাটল ধরা ভবনে আপাতত অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।