রমজান আলী, বেনাপোল (শার্শা)
ছবি: প্রতীকী
টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর জাতীয় নির্বাচনের আমেজ কাটিয়ে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে। শনিবার সকাল থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সচল হয়েছে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার কার্যক্রম।
নির্বাচনকালীন বন্ধ ও বর্তমান পরিস্থিতি: জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চিকিৎসা, ব্যবসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তাজনিত কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি যাত্রী পারাপার স্থগিত থাকলেও ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তা পুনরায় চালু হয়েছে। ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম চালুর প্রথম দিনেই (শুক্রবার) মোট ৫৪৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ১৮৬ জন (বাংলাদেশি ১৬০ ও ভারতীয় ৩৬ জন) এবং ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৫৯ জন (বাংলাদেশি ৩২৯, ভারতীয় ২৫ ও অন্যান্য দেশের ৫ জন)।
টানা তিন দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়েছে। তবে শনিবার সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ায় বন্দরে ব্যস্ততা বেড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন এবং যাত্রীরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব: বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৪৭ সাল থেকে এই পথে যাত্রী চলাচল শুরু হয়। এমনকি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বা অতি সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর সময়েও এই চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে এবারের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভোটের দিন ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের ১৪টি বন্দর দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা থাকলেও চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বছরে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ একচেটিয়াভাবে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করেন। এই ভ্রমণ খাত থেকে বাংলাদেশ সরকার বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং ভারত সরকার প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে।