Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরের ৩৭ প্রার্থীর ২৪ জনই জামানত হারাচ্ছেন

বিশেষ প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০১:১৭ পিএম
আপডেট : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
যশোরের ৩৭ প্রার্থীর ২৪ জনই জামানত হারাচ্ছেন

ছবি: প্রতীকী

যশোরের সংসদীয় ৬টি আসনে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫টি আসনেই জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং একমাত্র যশোর-৩ (সদর) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী। তবে নির্বাচনের এই ফলাফলে বড় একটি দিক হলো বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের (কাস্টিং ভোট) অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫০ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সেই হিসেবে যশোরের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনই তাদের জামানত হারাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যশোর-১ (শার্শা): এই আসনে বেসরকারিভাবে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মো. নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট। আসনটিতে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৬২৬ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ১৫ হাজার ৮০১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, জামানত বাঁচাতে এখানে প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৯৭৫ ভোট। কিন্তু লাঙ্গল প্রতীকের মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (১৩৯৮ ভোট) এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. বক্তিয়ার রহমান (১৭৬৮ ভোট) পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): এই আসনে জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট। আসনটিতে মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫ ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৯১ জন ভোট দিয়েছেন। এখানে জামানত রক্ষার ন্যূনতম সীমা ছিল ৪১ হাজার ৮৬১ ভোট। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন ৬ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের মো. ইদ্রিস আলী (হাতপাখা, ৫৭৮১ ভোট), বাসদের মো. ইমরান খান (মই, ৪৭২ ভোট), স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া, ১৮৮ ভোট), স্বতন্ত্র মো. মেহেদী হাসান (ফুটবল, ৩৮৯ ভোট), বিএনএফ-এর মো. শামছুল হক (টেলিভিশন, ২৩৩ ভোট) এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ (ঈগল, ৪১৬ ভোট)।

যশোর-৩ (সদর): যশোরের সদর আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮ জন ভোটারের মধ্যে এখানে ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৮ হাজার ৫৩ জন। জামানত বাঁচাতে এই আসনে প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল ৫১ হাজার ৭ ভোট। এই যোগ্যতা অর্জন করতে না পারায় ৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ মোয়াইব হোসেন (হাতপাখা, ১৩ হাজার ৩২২ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী (লাঙ্গল, ৩৪০৪ ভোট), জাগপার মো. নিজাম উদ্দিন অমিত (চশমা, ১৭৭২ ভোট) এবং সিপিবি’র মো. রাশেদ খান (কাস্তে, ৭৫৩ ভোট)।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া): এই আসনে জামায়াতের মো. গোলাম রসুল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি ধানের শীষে পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট। ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০ ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ জন ভোট প্রদান করেন। জামানত রক্ষার জন্য এখানে প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজার ৬৬০ ভোট। কিন্তু ৬ জন প্রার্থী সেই কোটা পূরণ করতে পারেননি। তারা হলেন— খেলাফত মজলিসের মাও. আশেক এলাহী (দেওয়াল ঘড়ি, ৩০১ ভোট), গণ অধিকার পরিষদের মো. আবুল কালাম গাজী (ট্রাক, ২৫৭ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা, ১১ হাজার ৮৩৮ ভোট), স্বতন্ত্র এম নাজিম ইদ্দীন আল আজাদ (মোটরসাইকেল, ৭৯৭ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল ইসলাম (লাঙ্গল, ১৭৫১ ভোট) এবং বিএমজেপি’র সুকৃতি কুমার মণ্ডল (রকেট, ১৫১০ ভোট)।

যশোর-৫ (মণিরামপুর): এই আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬ ভোট। বিএনপির মূল প্রার্থী রশীদ আহমাদ ধানের শীষে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট। ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২০ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৪ জন। জামানত বাঁচাতে এখানে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১৯৩ ভোটের প্রয়োজন ছিল। ফলে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা, ৪৪০০ ভোট), জাতীয় পার্টির এম এ হালিম (লাঙ্গল, ২২৪৫ ভোট) এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুজ্জামান (ফুটবল, ২১০৩ ভোট)।

যশোর-৬ (কেশবপুর): এই আসনে জামায়াতের মো. মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯২ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষে পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৪১ ভোট। মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৮ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩২২ জন। জামানত রক্ষার জন্য ২১ হাজার ৯১৫ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও ৩ জন প্রার্থী তা সংগ্রহ করতে পারেননি। তারা হলেন— এবি পার্টির মো. মাহমুদ হাসান (ঈগল, ৬৭২ ভোট), জাতীয় পার্টির জি এম হাসান (লাঙ্গল, ৯৯০ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা, ১২৮৫ ভোট)।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)