নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর: যশোর সদর উপজেলার ১নং হৈবতপুর ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাসান হিরনের নেতৃত্বে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ৮নং ওয়ার্ডের কাউদিয়া গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাউদিয়া গ্রামের সাধারণ ভোটার ও জামায়াত কর্মীরা একত্রে 'দাঁড়িপাল্লা' মার্কায় ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা কাউদিয়া জামে মসজিদের কাছে পৌঁছালে ১নং হৈবতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাসান হিরন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মালেকের নেতৃত্বে ৫-৬ জন তাদের পথরোধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে এবং একপর্যায়ে জামায়াতের দুই কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় আহত দুই কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে।
আহত জামায়াত কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, "আমরা গ্রামের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের পথ আটকে দেয়। তারা পরিষ্কার জানায় যে, কাউকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে না। আমরা এই অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।"
মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাসান হিরনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, "কে হামলা করেছে তাদের ওপর? যা ইচ্ছা করেন। আপনারা (সাংবাদিক) বেশি কথা বললে আপনাদেরও দেখে নেব।"
এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। এলাকার সাধারণ ভোটাররা সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।