বিশেষ প্রতিবেদক
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মক ভোটিং’ কার্যক্রমে অংশ নেন ছবি: ধ্রুব নিউজ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ‘গণভোট ছাড়া দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমি নিরপেক্ষ নই, আমি গণভোটের পক্ষের মানুষ। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মূলত বাংলাদেশই জয়ী হবে। যে শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার তৈরি করে, গণভোটের মাধ্যমে সেই সিস্টেম চিরতরে নির্মূল হবে।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মক ভোটিং’ কার্যক্রমে অংশ নেন।
উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের তরুণরা একই সুতায় গাঁথা এবং তারা অবিচ্ছেদ্য অংশ। উভয় আন্দোলনেই নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-এর আন্দোলনে প্রায় ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল নারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে আমাদের মেয়েরা দেশ রক্ষায় পিছিয়ে নেই। তাই রাষ্ট্র গঠনে তাদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার দিতে হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল মনে করে নারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুভার বইতে পারবে না। অথচ দেশের ৫২ শতাংশ নারী এবং ভোটারদের বৃহৎ অংশ যুব সমাজকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা অসম্ভব।’
শারমীন এস মুরশিদ বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও একই সাথে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট নেওয়ার নজির নেই। এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এই লক্ষ্য অর্জনে গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।’
দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব সামাজিক ব্যাধি দূর করতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফেরানোর বিকল্প নেই। আর সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হলো গণভোট। রাষ্ট্রের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষ চিরস্থায়ী সুবিচার পেতে পারে। গণভোট সেই কাঠামো বাস্তবায়নের মূল মাধ্যম।
মতবিনিময় সভা শেষে বেলা ১টায় উপদেষ্টা কালেক্টরেট চত্বরে গণভোটের ‘মক ভোটিং’ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; এটি দেশের সুস্থ পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। ভবিষ্যতের কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে এগিয়ে আসতে হবে।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব প্রমুখ।