নিজস্ব প্রতিবেদক
নানাভাবে চলছে লংমার্চের প্রচারণা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ৩য় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে এই বিশাল কর্মসূচির পথপরিক্রমা। ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর রওনা হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা নাওডোবা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ অতিক্রম করবে। এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে পথসভা শেষে রূপসা সেতু হয়ে খুলনার বাবরী চত্বর ও ফুলতলায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা পর্ব শেষে লংমার্চটি যশোরে প্রবেশ করবে, যেখানে নওয়াপাড়া বাজার ও শহরতলীর ঐতিহ্যবাহী মুরলী মোড়ে আয়োজন করা হয়েছে দুটি পৃথক পথসভা। পরবর্তীতে লংমার্চের বহর ঝিনাইদহ হয়ে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে এবং কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
খুলনা-যশোর অভিমুখে এ লংমার্চ সফল করতে এবং বিশেষ করে যশোরের প্রবেশদ্বার মুরলী মোড়ের পথসভায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামী। যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস জানান, মুরলী মোড়ে আয়োজিত কর্মসূচিটি খাতায়-কলমে পথসভা বলা হলেও বাস্তবে তা এক বিশাল জনসভায় রূপ নেবে। দেড় লাখেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্যাম মুক্ত রাখা, যাতায়াত সুগম করা ও সার্বিক নিরাপত্তায় জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ সফল করতে পাড়ায় পাড়ায় ও মহল্লায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি প্রতিদিন সভা-সমাবেশ ও দলীয় প্রস্তুতি বৈঠক করছে। আমিরে জামায়াতের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই লংমার্চ যশোরবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের সকল দুরভিসন্ধি ব্যর্থ হবে এবং জনগণের গণরায় বাস্তবায়িত হবেই।
লংমার্চের এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় ১১ দলীয় জোট প্রধানত ৮টি মূল দাবি সামনে নিয়ে আন্দোলন জোরদার করছে। দাবিগুলো হলো— গণজোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি চিরতরে বন্ধ করা এবং অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে ৩১ অক্টোবরের এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যশোরসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র রাজনৈক তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে।