Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভোটের মাঠ দখলের ‘পুরনো কালচার’ কি ফিরছে

বিশেষ প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১১:১২ এ এম
আপডেট : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ভোটের মাঠ দখলের ‘পুরনো কালচার’ কি ফিরছে

ছবি: প্রতীকী

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ভোটের যে আমেজ ফেরার কথা ছিল, ক্রমান্বয়ে তা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সেই পুরোনো ‘নির্বাচনী সহিংসতা’ ও ‘ভোট আতঙ্ক’ ফিরে আসার লক্ষণগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোটের প্রচারণায় পেশিশক্তি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে দমনের যে চিত্র উঠে আসছে, তাতে জনমনে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মনে হচ্ছে নির্বাচনের মাঠ দখলের যে উগ্র সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, দেশ এখন হুবহু সেই পথেই ছুটছে ।

গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে খাতা-কলমে নির্বাচন ছিল বটে, তবে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই ছিল এসব নির্বাচন নিয়ে ভয়াবহ সমালোচনা। ভোটারবিহীন নির্বাচন, দিনের ভোট রাতে হওয়া, ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিয়ে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, এমনকি অনেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। জানতে চাইলে উল্টো হুমকি ও বিপদে পড়তে হয়েছে সাধারণ ভোটারদের। মৃত ব্যক্তিও ভোট দিয়ে গেছেন বলেও সে সময় নানা খবর বেরিয়েছিল। সেখানেও শেষ ছিল না; বিগত সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের করে নিতে একদিকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নিজেদের পক্ষে কাজ করিয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রবিমুখ করা। এলাকার চিহ্নিত ভোটার যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়, তাদের চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ও গোপনে ভয় দেখানো, আতঙ্ক সৃষ্টি করা, হুমকি দেওয়া এবং নানা মামলায় ফাঁসানো ছিল নিত্যদিনের চিত্র। এক কথায়, আওয়ামী লীগের কথামতো সবাইকে চলতে বাধ্য করা হতো। এতেও কাজ না হলে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে খুন ও গুম করা হতো। আয়নাঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করা এবং পরিবারকে চাপে রাখা ছিল নিয়মিত ঘটনা। এসব খবর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত অপ্রমাণিত মনে হলেও সর্বত্রই ছিল এর আলোচনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব কিছু আর অজানা নেই; আন্তর্জাতিক আদালতেও তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও নানা তথ্য-প্রমাণসহ প্রচারিত হয়েছে।

সবাই ধারণা করেছিল নতুন বাংলাদেশে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশ আর পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাবে না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন মনে হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা ও জনসভাকে কেন্দ্র করে গত বেশ কয়েক দিন ধরে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে যেসব চিত্র উঠে আসছে, তা কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে দলের নেতা-কর্মীরা দেশের অনেক জায়গায় হামলা চালিয়ে জামায়াতসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের আহত-নিহত করেছে। আবার জনসভা ও ভোট প্রচারণায় গিয়েও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের মুখেও সহনশীলতার পরিবর্তে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচারের চিত্র দেখতে পাচ্ছে দেশবাসী।

ঢাকা-৮ আসনে ওসমান হাদীর মর্মান্তিক মৃত্যুর কোনো বিচার হয়নি, এমনকি মূল আসামি পর্যন্ত ধরা পড়েনি। ওই আসনে পরবর্তীতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এনসিপির নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ওপরও প্রায়শই হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবারই অভিযোগের তীর বিএনপির দিকে। মির্জা আব্বাসসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার লাগামহীন কথাবার্তা, মঞ্চে দাঁড়িয়ে এতদিন যাদের সাথে একত্রে কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, গীবত করা ও কুৎসা রটানো যেন বিএনপির নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেরপুর-৩ আসনে প্রকাশ্যে হামলা করে কুপিয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে হত্যা করা এবং হামলার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হুমকি দেওয়ার কথাও জানা যাচ্ছে গণমাধ্যমে। এরপরও দলটির পক্ষ থেকে এসব কিছুই নয়—এমন ভাবখানা নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

যশোরের ঝিকরগাছায় দুই দিন ধরে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এবং তা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। সেই নারী কর্মীদের রক্ষায় যারা এগিয়ে গেছেন, তারাও হামলার শিকার হয়েছেন। এ চিত্র শুধু ঝিকরগাছায় নয়, দেশের বহু স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রতিনিয়ত হামলা ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এখন স্বাভাবিকভাবেই জামায়াত ও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠছে—আদৌ কি ভোট সুষ্ঠুভাবে দেওয়া যাবে? পরিকল্পিতভাবে কি সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে না? এ প্রশ্ন শুধু ভোটারদের নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের টক শোতেও উঠে আসছে। নির্বাচন কমিশন এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

জনমনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি আওয়ামী স্টাইলে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে চাইছে একটি নির্দিষ্ট দল? প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে কেন জানি সেদিকেই ঝুঁকছে। এমনকি একটি বড় দলের ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীরা প্রথম বাছাইয়ে মনোনয়নের বৈধতা হারালেও ঠিকই পরবর্তীতে তা ফেরত পেয়েছেন। সে সময় সেই দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও ও আল্টিমেটাম দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার হয়নি। এসব আলামত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রশ্ন ওঠে—সত্যিই কি আওয়ামী দুঃশাসন, ভয় ও আতঙ্ক থেকে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন থেকে জনগণকে দূরে রাখা হচ্ছে? বিএনপির কাঁধে ভর করে কি আবারও পুরোনো চেহারায় আওয়ামী লীগই আসছে, নাকি বিএনপি চরিত্র বদলে আওয়ামী সন্ত্রাসের পথ বেছে নিল?

সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিচ্ছে ‘নির্বাচনী সহিংসতা’। অন্তত ২০২৪ সালের আগস্টে পাল্টে যাওয়া বাংলাদেশে এটা কেউ আশা করেনি। ৫ আগস্টের পর রাজনীতির মাঠে দৃশ্যত একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা বিএনপি এখন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরই একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর বিপরীতে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিএনপির আচরণ কি সেই পুরোনো আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে?

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৬২টি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত এক ডজনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের তালিকায় ওসমান হাদী ছাড়াও বিএনপির নিজস্ব নেতাকর্মী, দলত্যাগী, জামায়াত নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যদের নামও রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হওয়া ছোট-বড় সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। শুধুমাত্র শেরপুরের একটি ঘটনায়ই প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকা, পাবনা ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

শেরপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও পাবনায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জামায়াতের সাথে বিরোধই এসব সহিংসতার প্রধান উৎস। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আগে যেমন আওয়ামী লীগের দাপটে অন্য কেউ মাঠে দাঁড়াতে পারত না, এখন অনেক এলাকায় বিএনপির কিছু নেতার আচরণে একই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। টাঙ্গাইলসহ বেশ কিছু জায়গায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলেরই বিদ্রোহী বা তরুণ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী এলাকায় শোডাউন, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং মোটরসাইকেল মহড়া সাধারণ মানুষের মনে ভীতি তৈরি করছে, যা অতীতের নির্বাচনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, অফিস ভাঙচুরসহ প্রচারে বাধা দেওয়া এখন সাধারণ ঘটনায় রূপ নিচ্ছে। এসব আলামত ভোটাররা সহজে গ্রহণ করতে পারছেন না।

আবার অভিযোগগুলো প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিএনপির বিরুদ্ধেই উঠছে—যেমনটি যশোরের ঝিকরগাছায় দেখা গেছে। শুধু তাই না, গত ২৭ জানুয়ারি জামায়াতের আমীরের যশোরে যে জনসভা হয়েছিল, সেখানে আসার পথে রাজারহাট, বারান্দিপাড়া ও উপশহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কর্মীদের বিএনপির পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ‘সুষ্ঠু ও ভীতিহীন’ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না এলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন ওঠার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাঁদের সবার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একই দিনে দুটি ভোট (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট) আয়োজনের কারণে বুথ ও কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মিলিয়ে ২৫ হাজার ৩৩২টি কেন্দ্র রয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রাজধানীতে ডিএমপির আওতায় থাকা দুই হাজার ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। গোপালগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ কেন্দ্রই এই তালিকায় রয়েছে।

তবে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দাবি করেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে এবং তাঁরা দলগুলোর সহযোগিতা চান। কিন্তু নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। আওয়ামী আমলে দেওয়া ১০,৫০৬টি লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে অন্তত ৬৫৭টি এখনও জমা পড়েনি। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো লুণ্ঠিত অস্ত্র। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত ৫,৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে ১,৩৩১টি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনও দুষ্কৃতিকারীদের হাতে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করছে যে, এই অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো নির্বাচনের দিন বড় ধরনের নাশকতায় ব্যবহার হতে পারে। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, নির্বাচনের আগে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া জননিরাপত্তার জন্য বিরাট ঝুঁকি। এই অস্ত্রগুলো দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাদাবাজি করা হচ্ছে, কিন্তু মানুষ ভয়ে মুখ খুলছে না। যদিও সেনাবাহিনী ও র‍্যাব কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তবে বিশাল এই মজুত এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)