ধ্রুব ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিগত ও দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি। এসব জনগণের দাবি। বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেয়া হয়নি। ৭০ শতাংশ মানুষের দাবি আদায় করব। আমাদের আগের দু’টি লংমার্চ জনগণের সহযোগিতায় সফল হয়েছে।’
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা। যদি এ দাবি আদায় হতো তাহলে বাকী ছয়টি দাবি মাথাচাড়া দিতো না।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, আশাহত করেছে। বিএনপি যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে তাহলে চড়া মূল্য দিতে হবে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। বরং, তারা নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা তাদের পরিণতি ভোগ করছে। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা আমাদের দাবি মেনে নেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। আমাদের দাবি আদায় করে আমরা ছাড়ব।’
যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তোমরা কারো ছলনায় কান দিও না। আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।’
জনগণের দাবি আদায়ে তিনি জনগণকে লংমার্চ সফর করার আহ্বান জানান।
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা চাই দেশটা ভালোভাবে চলুক। সিস্টেম ভালো না থাকলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন করপোরেশন এখন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে সমস্ত টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা জুলাই বিপ্লবের প্রতি আমাদের কমিটমেন্ট পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছি। সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে গাদ্দারি করছে, জনগণকে অসম্মান করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গণভোট অবৈধ হলে এ সরকার ও সংসদও বৈধ হতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। তেল গ্যাস সঙ্কটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করায় দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়েছে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপি ভুল পথে পা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। সংবিধান সংস্কার না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি করে সরকার একদলীয় শাসনের পথে হাঁটছে।’
জুলাই সনদের সাথে গাদ্দারি করে সরকার জনগণকে লাল কার্ড দেখিয়েছি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের কর্মীদের আহত করার নিন্দা জানান তিনি।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চ করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
জামায়ামের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলনা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,জামায়ামের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
লাখো জনতার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে রওনা দেয়।
পথে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা; বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়; খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর; যশোরের মুড়লীর মোড়; ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালের পথসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানের গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানসহ নেতারা। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।
উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে, দ্বিতীয়টি ১৯ সেপ্টেম্বর করে রংপুর অভিমুখে।