ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে সম্প্রতি দেশটির একটি আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ঢাকা। ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও অনুলিপি চেয়ে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। ওই রায়ের সার্টিফাইড অনুলিপি হাতে পেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মূল কারণ ও বিস্তারিত তথ্য উন্মোচিত হবে। উল্লেখ্য, সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠিয়ে থাকে, সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই নাগরিকের নাম তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। সকাল ৮টার পর মরদেহটি ঢাকায় এসে পৌঁছালে শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী তা গ্রহণ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে সশরীরে উপস্থিত থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা হস্তান্তর করেন শামা ওবায়েদ। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় বগুড়ার শাহজাহানপুরের সন্তান মো. শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি প্রাণ হারান এবং আরও অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে গত ছয় মাসে শাহেদসহ নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। গত এক মাসে সৌদি আরবেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হন; যার মধ্যে শাহেদের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছালেও বাকি দুইজনের লাশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সৌদি সরকারের সাথে জোর আলোচনা চলছে, যাতে প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং নবায়নে কোনো প্রশাসনিক বাধা না থাকে।