ধ্রুব ডেস্ক
বাম থেকে: সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লা হিল কাফী, রমনা বিভাগের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের নয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। আদালতের রায়ের পর পুলিশ সদরদপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, 'কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে তিনি আদেশ দেওয়ার তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।'
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় ও সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ ও অধস্তন কর্মকর্তাকে দণ্ড দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, রমনা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
চলতি মাসের ৬ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, 'আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।'
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৪২ ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।
ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহী-রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে সাময়িক বরখাস্ত করে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।
রমনা বিভাগের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিলেটের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর মামলায় সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। তাকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া, ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে কক্সবাজারের উখিয়ার ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) সংযুক্ত করা হয়েছে।