ধ্রুব ডেস্ক
অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদ ছবি: ধ্রুব নিউজ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে আজ মঙ্গলবার বিরোধীদল ও সরকারী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাহাস হয়েছে। বিরোধীদলের দাবি, এই বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। তবে বিরোধীদের সমালোচনাকে ভিত্তিহীন দাবি করে সরকারি দলের সদস্যরা বাজেটকে জনবান্ধব, কল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় আজ মঙ্গলবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে। প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্র উচ্চাভিলাষী বিরোধীদলের এমপিরা। তারা বলছেন, মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলেন, যে বাজেটে মদ, সিগারেটের কর বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেই বাজেট তাদের ভালো লাগছে না! সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য মমতাজ আলম বিরোধীদলের সমালোচনায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘তারা ফুলের বাগানের ঘ্রাণ নিচ্ছে, কাঁটা নিচ্ছে না।’
বিরোধীদলীয় একজন এমপি ভাঙাচোরা সড়কের বিষয়টি বাজেট আলোচনায় আনেন। এর জবাবে নারী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি জীবা আমিনা খান বলেন, ‘দ্যা রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন, দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন, ফ্রম দ্যা প্রিভিয়াস রিজিম।’ জেবা আমিন ১১ মিনিট বক্তৃতা করেন ইংরেজিতে। মাঝেমাঝে বাংলা শব্দের কারণে তার বক্তব্য নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবা আমিনার পর যশোর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের এমপি মোক্তার আলীও ইংরেজিতে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে করের চাপ বাড়বে।
জামায়াতের আরেক এমপি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, বাজেটের প্রধান ক্ষতিকর দিকগুলো মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্মৃতির কারণে নিত্যপণ বাজারে চাপ বৃদ্ধি করবে। রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাশী লক্ষ্যমাত্রার ফলে সাধারণ মানুষের উপর পরক্ষ করের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে।
আবদুস সাত্তার চালুনি এবং সুঁইয়ের ফুটোর বিষয় আনেন বক্তব্যে। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অশালীন শব্দ চয়ন থেকে বিরত থাকতে বলেন জামায়াত এমপিকে। পশ্চাৎদেশের কথ্য শব্দটিকে এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়া এ জেড এম রেজোয়ানুল হক বাজেটের প্রশংসা করলেও, কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন।
বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘প্রতিবার দেখি যখনই বাজেট ঘোষণা হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আগুন ধরে যায়। এবারই প্রথম বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়নি। অর্থমন্ত্রী চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, চিনিসহ প্রায় ৬০ টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমিয়েছেন।’
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, বাজেটটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা। নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামাল আমদানিতে করসুবিধা বহাল রাখা হলেও এর মূল্য ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য আবুল হাসান। তিনি বলেন, মাদকের সন্ত্রাস বা মাদকের সয়লাব থেকে বাঁচাতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আবুল হাসান আরও বলেন, ‘যেভাবে ট্যাক্সের জালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আটকানোর কথা বলা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ই-টিন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। আমি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’