ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে এখনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা সম্ভব হয়নি। ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবার নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) আগের তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগবান্ধব ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
বিগত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে বছরের শেষ নাগাদ কোনো প্রতিষ্ঠানই চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেয়নি। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের পিএসসিতে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে পেট্রোবাংলা। নতুন চুক্তিতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, পাইপলাইন ট্যারিফ সুবিধা এবং বিশেষ শর্তে গ্যাস রপ্তানির সুযোগের মতো বেশ কিছু আকর্ষণীয় বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, যা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক করে তুলেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, অতীতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাননি। তবে বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব আসায় এবং পিএসসি সংশোধন করায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে নতুন করে আগ্রহ দেখাবে।
অনুরূপ সুর শোনা গেছে পিএসসি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. ম. তামিমের কণ্ঠেও। তিনি জানান, এবারের চুক্তিটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লাভজনক। কেবল দরপত্র আহ্বান করেই বসে না থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। যদি সাগরে গ্যাস পাওয়া যায়, তবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশও সমভাবে লাভবান হবে।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে তেল বা গ্যাস উত্তোলন করা একটি অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৬ মাস সময় পাবেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর বিড মূল্যায়ন, আলোচনা এবং চূড়ান্ত চুক্তি সই করতেই পার হয়ে যাবে প্রায় এক বছর। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর অনুসন্ধান চালাতেই কেটে যাবে ৬ থেকে ৯ বছর। এর সাথে গ্যাস আনার পাইপলাইন নির্মাণে লাগবে আরও অন্তত দুই বছর। ফলে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও সাগরের এই খনিজ সম্পদ ঘরে তুলতে অন্তত ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সাগরের প্রতিকূল পরিবেশ এবং সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের দেশের সমুদ্র এলাকা সবসময় শান্ত থাকে না। সেখানে কাজ করার জন্য বিশেষ সক্ষমতার প্রয়োজন। তাই সার্বিক দিক বুঝেশুনেই আমাদের সামনে এগোতে হবে।
সবশেষে, সংশোধিত পিএসসির নিয়ম অনুযায়ী যদি কোনো ব্লকে সফলভাবে তেল বা গ্যাস আবিষ্কৃত হয়, তবে গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষেত্রে ২৫ বছর এবং তেলক্ষেত্রের ক্ষেত্রে ২০ বছর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন চালানো যাবে। পরবর্তীকালে প্রয়োজন ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এই উৎপাদনের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ, সফল হলে একটি ব্লক থেকে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত জ্বালানি সুবিধা পাবে দেশ।
ধ্রুব/এস.আই