নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
স্মৃতিতে আজও ভাসে সেই নিঝুম রাত। ঘড়ির কাঁটায় ৫ মে, ২০১৩। মতিঝিলের আকাশ সেদিন মেঘলা ছিল কি না, কেউ মনে রাখেনি। কিন্তু শাপলা চত্বরের সেই আঁধার আজও অনেকের চোখে জল আনে।
হাজার হাজার মানুষ তখন ক্লান্ত। খোলা আকাশের নিচে একটু ঘুমের চেষ্টা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিভে যায় সব আলো। ঘন অন্ধকারে ছেয়ে যায় বাণিজ্যিক এলাকা। শুরু হয় 'অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট'। সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে ভেঙে যায় স্বপ্নগুলো। চারদিকে কেবল ধোঁয়া আর কান্নার রোল। শান্তির খোঁজে আসা মানুষগুলো সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল। সেই রাতের ক্ষত আজও শুকায়নি।
সেই সময় সত্য কথা বলা ছিল কঠিন। মুখ খুললেই ছিল মামলা আর ভয়। মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' নিহতের তালিকা দিয়ে রোষানলে পড়ে। দীর্ঘ ১৩ বছর এই চাপা আর্তনাদ কেবল দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। মানুষ তার হারানো স্বজনের খোঁজ চেয়েও পায়নি। গুমরে মরেছে লাখো মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
সময় বদলেছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। গত ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা পড়েছে। আসামির তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৎকালীন প্রতাপশালী কর্মকর্তারা।
তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। প্রসিকিউশন বলছে, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। ঢাকাতেই ৩২ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এখন চলছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। সেদিন কোন কর্মকর্তা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, ট্রাইব্যুনাল এখন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাইছে।
আজ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর। আজও মতিঝিলের পিচঢালা পথে হাঁটলে কেউ কেউ থমকে দাঁড়ান। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই রাতের আর্তনাদ। বিচারপ্রার্থীরা এখন শেষ আশার আলো দেখছেন ট্রাইব্যুনালের এজলাসে। সত্য বেরিয়ে আসুক, শান্ত হোক বিদেহী আত্মাগুলো।