নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের অন্তত ২৬টি জেলায় ব্যাপক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’ (এমএসএফ) জানিয়েছে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এই তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে এমএসএফ জানায়, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংস্থাটি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে।
এমএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে হামলার শিকার হয়েছেন অনেকেই। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ার কারণে নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক চরম নিষ্ঠুরতায় ময়মনসিংহে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে; শিশুটির বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় তাকে ‘সুপারি চুরির’ অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় আকস্মিক বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছেন। ভোলায় আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুর রহিম নিহত হয়েছেন এবং লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ থাকার পর এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর পুলিশের গুলিতে একজন দিনমজুর গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেশের অন্তত ২৬টি জেলায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জেলাগুলো হলো— ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব এলাকায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয় ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার গুরুতর অভিযোগও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএফ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলেছে যে, নির্বাচন-পরবর্তী এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও’ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচার সহিংসতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।