ধ্রুব নিউজ
❒ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দু’সহদর ছবি: ধ্রুব নিউজ
হত্যা মামলায় যশোরের একটি আদালত দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে আরও ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খাদিজা খাতুন নামে এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর, ২০২৪) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাওলিয়া গ্রামের মৃত জবেদ আলীর দুই ছেলে ওসমান গণি ও আলী হোসেন। তারা দুজনই বর্তমানে কারাগারে আটক আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ছোট পোদাওলিয়া গ্রামের কামরুল আমিনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ওসমান ও আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কামরুলের সঙ্গে ওসমান গণি ও আলী হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওসমান ও আলী হোসেন বাড়ি থেকে ধারালো দা এনে কামরুল আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় কামরুলকে বাঁচাতে গিয়ে তার বড় ভাই, ছোট ভাই ও ভাইপোর স্ত্রীসহ চারজন হামলার শিকার হন।
চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহত চারজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কামরুলের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত কামরুলের পিতা রুহুল আমিন সরদার বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বনী ইসরাইল তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি ওসমান গনি ও আলী হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা মোতাবেক হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৩৪ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে আরও ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
অপর আসামি খাদিজা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অপ্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।