Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, মৃত্যু ৬০০ ছুঁই ছুঁই, নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২,৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট,২০২৬, ১০:৩৩ এ এম
মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, মৃত্যু ৬০০ ছুঁই ছুঁই, নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২,৫০০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭৮ জনে। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক।  

বন্যায় ভেসে যাওয়া মরদেহ ভেসে উঠছে বহু দূরের ভাটি অঞ্চলে। সেখানকার হাসপাতালের মর্গগুলোতে সেসব লাশ রাখার মতো জায়গাও খালি নেই। 

একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হতে থাকায় সেগুলো সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাসুওয়া ও নুওয়াকোট থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো নুওয়াকোট ও ভাটির দিকে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ও অন্যান্য এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

নুওয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপরাসির মর্গগুলোতে জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছু মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেখানে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করছে। পোখরা শহরের হাসপাতালগুলোও জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে মৃতদেহ আসতে শুরু করায় তাদের মর্গগুলোও পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মরদেহ সামলাতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাওয়ায় চিতওয়ানের ভরতপুরে কর্তৃপক্ষ একটি অব্যবহৃত ভবনে অস্থায়ী মৃতদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রস্তুত করছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর চিতওয়ান অংশে, ফিশলিং থেকে গোলাঘাট পর্যন্ত ১৩৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের কাজ অব্যাহত ছিল।

চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গগুলোতে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। সেই ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই চাপের মুখে থাকায় অস্থায়ী কেন্দ্রটিতে প্রায় ২৫০ লাশ রাখার ব্যবস্থা করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি এই ধারণক্ষমতাও পেরিয়ে যায়, তবে বাড়তি বিকল্প হিসেবে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার (সিডিও) গণেশ আরিয়াল বলেন, ভরতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কেন্দ্রটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে। মরদেহ যাতে পচে না যায়, সেজন্য কক্ষের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসানো হচ্ছে। ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। চিতওয়ানের বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি এই জরুরি ড্রাই আইস সরবরাহের খরচ ও দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছে।

ক্রমাগত মৃতদেহ উদ্ধার হতে থাকায় বন্যার পর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা রাসুওয়া, নুওয়াকোট, গোর্খা ও অন্যান্য জেলা থেকে চিতওয়ানে আসতে শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার কর্মীরা যখন অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করছিলেন, তখনও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানতে স্বজনরা সেখানে ভিড় করছিলেন।

ভোটেশকোশী নদীর বন্যায় ভেসে আসা মরদেহে নেপালের আরেক শহর পোখরার মর্গগুলোও পূর্ণ হয়ে উঠছে।

বন্যাদুর্গত কয়েকটি জেলার মর্গগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় মরদেহগুলো পোখরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ এই শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কাস্কির প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং বলেন, 'পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমরা ইতিমধ্যেই ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছি। আপাতত কোনোভাবে এগুলো রাখার ব্যবস্থা করেছি। যদি আরও মরদেহ আসে, তবে আশেপাশের জেলাগুলোর সাথে সমন্বয় করতে হবে।'

পোখরা একাডেমি অভ হেলথ সায়েন্সেসের তথ্য কর্মকর্তা সুশীল আরিয়াল জানান, বর্তমানে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মরদেহগুলো রাখা হচ্ছে। এই তাপমাত্রায় সাধারণত ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর চেয়ে বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করতে হলে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বজায় রাখার মতো অবকাঠামো প্রয়োজন। কিন্তু পোখরায় বর্তমানে এ ধরনের সুবিধা নেই।

তিনি আরও জানান, এখনও নদীর ভাটি থেকে মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গোর্খার প্রাদেশিক হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় ভেসে আসা ১১টি মরদেহ পোখরার গণ্ডকী প্রাদেশিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

এছাড়া উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় একই ধরনের সংকটে পড়েছে পূর্ব নাওয়ালপরাসিও। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মর্গে জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপায় পাঠানো হয়েছে।

প্রধান জেলা কর্মকর্তা জগদীশ্বর উপাধ্যায় বলেন, 'মরদেহ এখনও উদ্ধার হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক মরদেহ ব্যবস্থাপনার মতো অবকাঠামো এই জেলায় নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো এবং পোখরার সঙ্গে সমন্বয় করছি।'

বুধবার সকালে আচমকাই নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানিতে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি ও পাথর।

বন্যা যেখানে হয়েছে, তার পাশেই চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান কৈলাস মানস সরোবর। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে যান পর্যটকরা। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গায় যান। এ কারণে এক জায়গাতেই এত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। 

এ বন্যায় নেপালে ৫৭৯ জনের পাশাপাশি তিব্বতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। 

রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)