তহীদ মনি
ছবি: সংগৃহীত
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় আবারো প্রশ্নপত্র বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (কেন্দ্র সচিব) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এইচএসসিতে আরও দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ঘটায় তাদেরও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সেসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম খতিয়ে দেখে শাস্তির সুপারিশ করার কথা বলা হয়েছিল।
এবার অনিয়ম ঘটেছে ঝিকরগাছা রঘুনাথ নগর কলেজ কেন্দ্রে (৪৬১)। গত রোববার (১৯ জুলাই) ওই কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র (২৬৭) বিষয়ের প্রশ্নের স্থলে একই বিষয়ের ২য় পত্রের (২৬৮) প্রশ্ন বিতরণের ঘটনা ঘটে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে রঘুনাথ নগর কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনার সাথে জড়িত সকলকে কারণ দর্শাতেও (শোকজ) বলা হয়েছে। তাছাড়া গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ডের পরীক্ষা বিভাগ। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হাসান আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ৩টি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে অনিয়ম ও ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র সচিব তথা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি যেমন অসন্তুষ্ট, তেমনি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রের অন্য কর্মকর্তাদের প্রতিও হতাশ। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও গতকাল রোববার বোর্ডের কাছে বার বার জানতে চেয়েছে—এই সব কেন্দ্র, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসব ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় দারুণভাবে ক্ষুব্ধ। একটি সূত্রের মতে, এমনিতেই শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে বাজেভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করছে একটি পক্ষ, হচ্ছে আন্দোলন। সে সময় কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বহীন আচরণ ও উদাসীনতা পরীক্ষা ও মন্ত্রণালয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাছাড়া এক পরীক্ষার স্থলে অন্য পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করায় সেই প্রশ্ন বাতিল করে কখনো কখনো মাত্র ২ দিনের মধ্যে ২৪০টি কেন্দ্রে নতুন প্রশ্ন সরবরাহ করে পরীক্ষা নিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রশ্ন ঢাকা বিজি প্রেস থেকে আনতে হয় বলে অতিরিক্ত জনবল, ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারি কর্মকর্তা ও ট্রেজারি বিভাগকেও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দিনরাত অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
এর আগে উপশহর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) (২৭৫) বিষয়ের প্রশ্ন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে প্রত্যাহার করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। একইভাবে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ (২৫২) কেন্দ্রে ভূগোল বিষয়ের প্রশ্নপত্র বিতরণে অনিয়ম হয়, সেখানেও ভুলভাবে প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছিল। ফলে পরবর্তী পরীক্ষা নতুন প্রশ্ন সরবরাহ করে সম্পন্ন করে বোর্ড।
বোর্ড সূত্র জানায়, এই ৩টি কেন্দ্রের প্রশ্ন বিতরণে অনিয়ম বা ১ম পত্রের জায়গায় ২য় পত্রের প্রশ্ন বিতরণের খবর পাওয়ার পর প্রতিবারই প্রতিটি কেন্দ্রে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম, বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হাসান আলী—এই ৩ জন সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। পরে কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একই সাথে পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটিও গঠন করে বোর্ড। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশিত গৃহীত ব্যবস্থাদিও জানানো হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হাসান আলী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তাগিদের কথা স্বীকার করে বলেন, যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।