Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শহরে লোডশেডিংয়ের সময় টেনিস খেলে সমালোচনার মুখে বার্লিনের মেয়র, সরে দাঁড়ালেন নির্বাচন থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুলাই,২০২৬, ০১:০৯ পিএম
শহরে লোডশেডিংয়ের সময় টেনিস খেলে সমালোচনার মুখে বার্লিনের মেয়র, সরে দাঁড়ালেন নির্বাচন থেকে

বার্লিনের মেয়র কাই ওয়েগনার। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রক্ষণশীল মেয়র জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় টেনিস খেলা নিয়ে সৃষ্ট ব্যাপক সমালোচনার পর তিনি আর পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হবেন না।

মধ্য-ডানপন্থী খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়নের বার্লিনের মেয়র কাই ওয়েগনার শুক্রবার বলেন, দায়িত্ব পালনের তিন বছর পর তিনি আরেকটি মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

৫৩ বছর বয়সী ওয়েগনারের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, জার্মানির রাজধানীতে সংঘটিত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় তিনি যথাযথভাবে সাড়া দেননি। তীব্র শৈতপ্রবাহের সময় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রায় এক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন।

জানুয়ারির শুরুতে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যখন সন্দেহভাজন বামপন্থী নাশকতাকারীরা একটি বিদ্যুৎবাহী তারের সেতুতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মেয়র প্রথমে দাবি করেছিলেন, নাশকতার ঘটনার পরদিন সকালে তিনি নিজ বাসা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক টেলিফোনে কথা বলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

তবে পরে প্রকাশ পায়, তিনি ওই সকালে টেনিস খেলেছিলেন এবং বিকেলের আগে তার দপ্তরের সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগই হয়নি।

পরে তিনি নিশ্চিত করতে বাধ্য হন যে, তিনি তার সঙ্গী এবং বার্লিনের শিক্ষামন্ত্রী ক্যাথারিনা গ্যুন্টার-ভুনশের সঙ্গে ওই টেনিস ম্যাচ খেলছিলেন।

তিনি বলেন, 'আমি অলসভাবে সময় কাটাচ্ছিলাম না বা আরামে বসেও ছিলাম না। বরং সারাদিনই ফোনে থেকে পরিস্থিতির সমন্বয় করার এবং যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি আক্ষরিক অর্থেই বাড়ির অফিসকক্ষে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলাম।'

শুক্রবার তিনি স্বীকার করেন, 'হ্যাঁ, যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমি ভুল করেছি।' তিনি পুরো ঘটনাটি সামাল দেওয়ার ধরনকে 'অত্যন্ত বাজে' বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, 'আমি আর আমার বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি না, কারণ অন্য একটি বিতর্ক সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।'

নতুন নগর সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বার্লিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৩ সালে কাই ওয়েগনার বহু দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সামাজিক গণতন্ত্রীদের কাছ থেকে বার্লিনের 'রোটেস রাথাউস' বা নগর ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দলে ফিরিয়ে আনেন। সে সময় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকারিতার প্রতীক হয়ে ওঠা জনসেবাগুলো আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তার দলের প্রতি জনসমর্থন কমে যায়। এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, সামাজিক গণতন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত তাদের বর্তমান জোট সম্ভবত আর নগর ভবনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে না।

জনমত জরিপে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে কঠোর বামপন্থী দল 'দি লিঙ্কে'। দলটি বড় বড় সম্পত্তি কোম্পানির মালিকানাধীন আবাসন অধিগ্রহণ করে সেগুলো সরকারি মালিকানায় আনার দাবিতে প্রচার চালিয়ে আসছে।

দীর্ঘদিন ধরে জার্মানির সবচেয়ে দরিদ্র শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল বার্লিন। তবে গত দুই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের আগমনে শহরটির অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।

তবে এই নতুন আগমনকারীদের কারণে শহরের আবাসন বাজার এবং জনসেবার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)