ক্রীড়া ডেস্ক
২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ধারাবাহিক জয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টাইগাররা ২-১ ব্যবধানে এই ধারাবাহিক নিজেদের করে নিয়ে দেশের ক্রিকেটে যোগ করেছে গৌরবের নতুন অধ্যায়।
ধারাবাহিকের শুরুটা ভালো না হলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় এবং তৃতীয় ম্যাচে ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান তাদের ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন। বিশেষ করে নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যাটিংয়েও ছিল দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাস গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তৃতীয় ম্যাচে শান্তর অসাধারণ ১০৫ রান এবং লিটনের ৭৬ রান দলের বড় সংগ্রহ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেট হোক বা চট্টগ্রামের সমতল ব্যাটিং সহায়ক মাঠ—প্রতিটি পরিস্থিতিতে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং সঠিক সময়ে সঠিক বোলার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।
নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে তাদের বিপক্ষে ধারাবাহিক জয় পাওয়া সহজ ছিল না। তাই এই সাফল্য কেবল একটি সিরিজ জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের এক বড় প্রমাণ।
যদিও নিউজিল্যান্ড দলটি পূর্ণ শক্তির ছিল না, তবুও তাদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ধারাবাহিক জয়ে বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। নাহিদ রানা, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের পারফরম্যান্স এবং বোলিং বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টাই ছিল এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল চাবিকাঠি।