Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

‘জানি না কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হব’: সংকটে ইসরায়েলি জনজীবন ও রাজনীতি

সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল সাইমন স্পিকম্যান কর্ডাল
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
‘জানি না কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হব’: সংকটে ইসরায়েলি জনজীবন ও রাজনীতি

২০২৬ সালের ২৬শে মার্চ উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন একজন ইসরায়েলি সৈন্য। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ আড়াই বছরের নৃশংস সামরিক অভিযান ইসরায়েলের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে ইসরায়েল যখন তার আঞ্চলিক প্রধান শত্রু ইরানের বিরুদ্ধে এক ‘অস্তিত্বের লড়াইয়ে’ লিপ্ত—যাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ অনেকেই চূড়ান্ত সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করছেন—তখন দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি সম্ভবত ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীদের চেয়ে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপরই বেশি নির্ভর করবে।

যুদ্ধের বিশাল অর্থনৈতিক বোঝা

ইরানের বিরুদ্ধে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত হেনেছিল। ব্যাংক অফ ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা, লেবানন, ইরান এবং হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশটির এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৫২ বিলিয়ন শেকেল (১১২ বিলিয়ন ডলার)। এটি দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন শেকেল (৯৬ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ের সমান।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ইসরায়েল বর্তমানে গণহত্যার অভিযোগের সম্মুখীন, যা প্রাথমিক বিচারে আদালত ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে রায় দিয়েছেন। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ভয়াবহ আর্থিক পরিণতির মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান

ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করা। তবে এই লক্ষ্যগুলো বর্তমানে বেশ সুদূরপ্রসারী ও কঠিন বলে মনে হচ্ছে। টানা চার সপ্তাহ বোমাবর্ষণের পরেও ইরানে সরকারবিরোধী কোনো বড় অস্থিরতা বা প্রতিরোধের চিহ্ন দেখা যায়নি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে ইরান সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তবে রয়টার্স মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

সামাজিক চাপ ও জনমত

ইসরায়েলের সাধারণ জনগণকে এখন নিয়মিত বিমান হামলার সাইরেন ও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। জরুরি অবস্থার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় এবং অভিভাবকদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার বাধ্যবাধকতায় পরিবারগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাসত্ত্বেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শাইন্ডলিন আল জাজিরাকে জানান যে, অধিকাংশ ইহুদি ইসরায়েলি এই যুদ্ধকে ‘অনিবার্য’ বলে মনে করছেন।

মার্চের শেষের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৮ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তাদের একটি বড় অংশ মনে করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছে। ডালিয়া শাইন্ডলিনের মতে, "এটি অতীতের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধগুলোর মতো নয়। ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় প্রতিনিয়ত সবাইকে জীবন বাঁচাতে ছুটতে হচ্ছে। এর শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না।"

রাজনীতির চরমপন্থা ও নতুন বাজেট

ইসরায়েলের বর্তমান রাজনীতি ১৯৯০-এর দশকের ওসলো চুক্তি বা ১৯৮০-এর দশকের তুলনামূলক মধ্যপন্থী অবস্থানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টরপন্থীরা সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন। সম্প্রতি একটি সুরক্ষিত বাঙ্কার থেকে রেকর্ড ২৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বাজেট পাস করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অতি-গোঁড়া ইহুদি ও বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত নেতানিয়াহুর সরকারের টিকে থাকার একটি কৌশল।

বামপন্থী হাদাশ পার্টির নেত্রী আইদা তোউমা-স্লিমান বলেন, "পরিস্থিতি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। গাজায় যা ঘটেছে, বিশ্ব তা দেখেও না দেখার ভান করেছে। ফলে বর্তমান সরকার এখন যা করছে, তাকে তারা বৈধ বলে মনে করছে।"

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইসরায়েলের সাধারণ জনগণ কতদিন এই অন্তহীন যুদ্ধের আর্থিক ও সামাজিক বোঝা বহন করবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি করা ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’-এর নিন্দা জানিয়েছে।

অর্থনীতিবিদ শির হেভার সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল এখন একটি ‘স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের অর্থনীতির’ মতো আচরণ করছে, যেখানে বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা না ভেবে যথেচ্ছভাবে সামরিক ব্যয় করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের সমাপ্তি কবে হবে, তা ইসরায়েলের চেয়ে বরং মার্কিন প্রশাসনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। সম্প্রতি নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু যখন যুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন, তিনি কেবল এটুকুই বলতে পেরেছিলেন যে তারা এখন ‘অর্ধেক পথে’ আছেন।

আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর-মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)