ধ্রুব ডেস্ক
আগামী মার্চের শুরুতে চাঁদের অপর পিঠের চারপাশ ঘুরে আসার জন্য চার নভোচারীকে নিয়ে পাড়ি জমাবে আর্টেমিস-২ মিশন। ছবি: সংগৃহীত
নাসার ৯৮ মিটার উচ্চতার দানবীয় ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেটের মাথায় বসানো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা দীর্ঘ ৫০ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও চাঁদ প্রদক্ষিণ করার জন্য মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চের শুরুতে চাঁদের অপর পিঠের চারপাশ ঘুরে আসার জন্য চার নভোচারীকে নিয়ে পাড়ি জমাবে আর্টেমিস-২ মিশন। সফল হলে ১০ দিনের এ মিশন হবে মহাকাশে মানবজাতির সবচেয়ে দূরপাল্লার ভ্রমণ।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটে জ্বালানি ভরা এবং কাউন্টডাউন পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নাসা আগামী ৬ মার্চ এই উৎক্ষেপণের প্রাথমিক দিন ধার্য করেছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার লরি গ্লেজ বলেন, “প্রতি রাতে যখন আমি চাঁদের দিকে তাকাই, আমি শিহরিত বোধ করি। আমি অনুভব করতে পারি চাঁদ আমাদের ডাকছে এবং আমরাও এখন প্রস্তুত। আর্টেমিস-২ নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।”
ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রথম দফার মহড়া হাইড্রোজেন জ্বালানি লিক হওয়ার কারণে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। তবে লরি গ্লেজ নিশ্চিত করেছেন যে, সিল এবং ফিল্টারের সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে এবং এসএলএস রকেটে পূর্ণ মাত্রায় জ্বালানি ভরার পরীক্ষা সফল হয়েছে।
নভোচারী ও মিশন পরিকল্পনা
আর্টেমিস-২ মিশনের জন্য নির্বাচিত চার নভোচারী হলেন, আমেরিকান তিন নাগরিক রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডীয় জেরেমি হ্যানসেন।
১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের দূরবর্তী পিঠ (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। বর্তমানে এই দলটি কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নাসার ৯৮ মিটার উচ্চতার দানবীয় ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেটের মাথায় বসানো ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে থাকবেন নভোচারীরা। এই ক্যাপসুলটির ভেতরকার জায়গা একটি ছোট বাসের সমান, যেখানে চার নভোচারী খাবেন, ঘুমাবেন এবং কাজ করবেন।
যাত্রার প্রথম দিন তারা পৃথিবীর কক্ষপথে থাকবেন। সব সিস্টেম ঠিক থাকলে তারা চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। চার দিনের যাত্রা শেষে তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়বেন। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা চাঁদকে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তুলবেন। এরপর আরও চার দিনের ফিরতি যাত্রা শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হবে এই মিশন।
চাঁদে ফেরার লড়াই
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর মানুষ আর চাঁদে যায়নি। আর্টেমিস-২ সফল হলে তা আর্টেমিস-৩ মিশনের পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদে পা রাখবে মানুষ।
চাঁদে নামার এই লড়াইয়ে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। স্পেসএক্স-এর স্টারশিপ রকেট তৈরিতে দেরি হওয়ায় নাসা তাদের পরিকল্পনা দ্রুততর করার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে বলবে।
অন্যদিকে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নামার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। দুই দেশই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার এবং সেখানে ঘাঁটি তৈরির সেরা জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে।