❒ যশোর বোর্ডে জিপিএ -৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন, সবচেয়ে কম পাশ ইংরেজিতে, শতভাগ পাশ মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে, পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়েও সামনে, শীর্ষে যশোর তলানিতে নড়াইল, ১৫টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ও জিপিএ-৫
বিশেষ প্রতিবেদক
যশোর শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
আজ সকাল ১১টায় প্রকাশিত হয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবার পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ। জিপিএ -৫ পেয়েছে ৩,২২৮ জন। তবে সারা দেশে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ।
আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সময়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডেওিআনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়।
যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল পরিসংখ্যানের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
মোট পরীক্ষার্থী: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ১,১৭,৫১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ১,১২,৭৯১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৪,৮১১ জন এবং ছাত্রী ৫৭,৯৮০ জন।
পাস ও জিপিএ-৫: পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৫০,০৬৮ জন পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ (GPA 5) অর্জন করেছেন মোট ৩,২২৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২.৮৬%। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১,৩৫৮ জন এবং ছাত্রী ১,৮৭০ জন।
বিজ্ঞান বিভাগ: বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২২,৩৩৬ জন (ছাত্র ১০,৮৬৫, ছাত্রী ১১,২৬৭)। এই বিভাগে পাসের হার ৬৮.২৬ শতাংশ (মোট ১৫,১০৭ জন পাস) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১,০১৭ জন।
মানবিক বিভাগ: মানবিক বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৫,৩০৯ জন (ছাত্র ৩৮,৪৫১, ছাত্রী ৪৩,৭৮৯)। এই বিভাগে পাসের হার ৩০.৬৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৯৭ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০,৩৩৫ জন (ছাত্র ৭,০৩৭, ছাত্রী ৫,০৭৮)। এই বিভাগে পাসের হার ৩৯.৪২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৩ জন।
পরীক্ষার ফলাফল বোর্ড কর্তকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসাইন আলী-এর স্বাক্ষরসংবলিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

সবচেয়ে কম পাস ইংরেজিতে
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি খারাপ করেছে ইংরেজিতে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক পাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগের সামগ্রিক ফলাফলে সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ইংরেজি বিষয়।
প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর বোর্ডের অধীন মোট ১,০৮,৯৩৯ জন শিক্ষার্থী ইংরেজি (বিষয় কোড-১০৭) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছেন মাত্র ৫৯,৮৬২ জন। ফলে এই বিষয়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪.৯৫ শতাংশে, যা চলতি বছরে বোর্ডের অন্যান্য সব বিষয়ের তুলনায় সর্বনিম্ন। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীই ইংরেজিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেননি।
একই সঙ্গে অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পাসের হার ৬৮.৮৪ শতাংশ এবং বাংলায় ৮১.৭৩ শতাংশ। বিপরীতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে; যেখানে পদার্থবিজ্ঞানে ৯৩.১৮%, রসায়নে ৮৮.৪০% এবং উচ্চতর গণিতে ৮৮.৮৮% শিক্ষার্থী পাস করেছেন। কিন্তু ইংরেজিতে রেকর্ড পরিমাণ ফেলের ধাক্কায় বোর্ডের সার্বিক পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৪.৯২ শতাংশে।
বিষয়ভিত্তিক পাসের হার: বোর্ডের প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভিন্ন প্রধান বিষয়ে পাসের হার নিম্নরূপ:
বাংলা (১০১): পরীক্ষার্থী ৮৬,১৩৭ জন, পাস করেছেন ৭৫,৫৭১ জন (পাসের হার ৮১.৭৩%)।
ইংরেজি (১০৭): পরীক্ষার্থী ১,০৮,৯৩৯ জন, পাস করেছেন ৫৯,৮৬২ জন (পাসের হার ৫৪.৯৫%)।
পদার্থবিজ্ঞান (১৭৪): পরীক্ষার্থী ২০,০২৭ জন, পাস করেছেন ১৮,৬৫৫ জন (পাসের হার ৯৩.১৮%)।
রসায়ন (১৭৬): পরীক্ষার্থী ১৭,৫৭১ জন, পাস করেছেন ১৫,৫১৬ জন (পাসের হার ৮৮.৪০%)।
জীববিজ্ঞান (১৭৮): পরীক্ষার্থী ১৯,১৮৩ জন, পাস করেছেন ১৪,৭৫৯ জন (পাসের হার ৭৬.২২%)।
উচ্চতর গণিত (২৬৫): পরীক্ষার্থী ৯,৫৮২ জন, পাস করেছেন ৮,৪৬৫ জন (পাসের হার ৮৮.৮৮%)।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি - ২৭৫): পরীক্ষার্থী ৮৭,২৭৯ জন, পাস করেছেন ৫৯,২০৬ জন (পাসের হার ৬৮.৮৪%)।
শতভাগ পাশ তিনটি প্রতিষ্ঠানে
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র তিনটি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীন শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৩টি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ১. ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ) – পরীক্ষার্থী ৪৩ জন, পাস করেছে ৪৩ জন। ২. নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (খালিশপুর, খুলনা) – পরীক্ষার্থী ৬১ জন, পাস করেছে ৬১ জন। ৩. ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (চুয়াডাঙ্গা) – পরীক্ষার্থী ২৩ জন, পাস করেছে ২৩ জন।
পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়েও সামনে
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাস এবং জিপিএ-৫—দুই সূচকতেই ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। বোর্ডের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রীদের সাফল্য নজরকাড়া।
বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট নিবন্ধিত ১,১৭,৫১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১,১২,৭৯১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৫৭,৯৮০ জন এবং ছাত্র ছিলেন ৫৪,৮১১ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তীর্ণ মোট ৫০,০৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ২৯,১৬৬ জন এবং ছাত্রের সংখ্যা ২০,৫০২ জন। ছাত্রীদের মধ্যে পাসের হার ৫০.৩০ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৩৯.২৩ শতাংশ। অর্থাৎ, পাসের হারে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে ১১.০৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।
এদিকে জিপিএ-৫ (GPA 5.00) পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে ছাত্রীরা। বোর্ডে মোট ৩,২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যার মধ্যে ১,৮৭০ জনই ছাত্রী (৩.২৩%)। অপরদিকে জিপিএ-৫ অর্জনকারী ছাত্রের সংখ্যা ১,৩৫৮ জন (২.৪৮%)।
বিভাগওয়ারী ফলাফলেও দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৭,৪১৬ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন এবং ১১,৩১২ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন (ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.৮২% ও ছাত্রদের ৬৮.২৬%)। জিপিএ-৫ পেয়েছেন বিজ্ঞানের ৮৪১ জন ছাত্রী ও ৫১৭ জন ছাত্র। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার ৩০.৬৫% ও ছাত্রদের পাসের হার ৩৯.৪২% ।
শীর্ষে যশোর, তলানিতে নড়াইল
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার জেলাওয়ারী ফলাফলে বোর্ডের অধিন ১০টি জেলার মধ্যে ৫২.৯৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে শীর্ষ স্থান দখল করেছে যশোর জেলা। অপরদিকে ৩৬.৭৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জেলাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে নড়াইল জেলা।
১০টি জেলার বিস্তারিত ও নির্ভুল ফলাফলের তালিকা (পাসের হারের ক্রমানুসারে):
১. যশোর (১ম): পাসের হার ৫২.৯৪%। ১৯,৫৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ১০,৩৫৪ জন (ছাত্র ৪,৫৯৬, ছাত্রী ৫,৭৫৮)। ২. খুলনা (২য়): পাসের হার ৪৬.৬৫%। ২২,৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ১০,৫১১ জন (ছাত্র ৪,৮২০, ছাত্রী ৫,৬৯১)। ৩. চুয়াডাঙ্গা (৩য়): পাসের হার ৪৬.১৩%। ৬,৮৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ৩,১৫২ জন (ছাত্র ১,৩৩৪, ছাত্রী ১,৮১৮)। ৪. কুষ্টিয়া (৪র্থ): পাসের হার ৪৫.৩৮%। ১৫,০৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ৬,৮৩০ জন (ছাত্র ২,৭০১, ছাত্রী ৪,১২৯)। ৫. সাতক্ষীরা (৫ম): পাসের হার ৪৩.৪৫%। ১১,৫৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ৫,০৩৬ জন (ছাত্র ২,১৫৭, ছাত্রী ২,৮৭৯)। ৬. ঝিনাইদহ (৬ষ্ঠ): পাসের হার ৪১.৯৮%। ১৪,৩৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ৬,০৩৩ জন (ছাত্র ২,৬৮৮, ছাত্রী ৩,৩৪৫)। ৭. মেহেরপুর (৭ম): পাসের হার ৪০.৭৬%। ৩,৫৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ১,৪৬০ জন (ছাত্র ৫১৩, ছাত্রী ৯৪৭)। ৮. বাগেরহাট (৮ম): পাসের হার ৩৮.৮৬%। ৭,৮৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ৩,০৬৭ জন (ছাত্র ১,১১৯, ছাত্রী ১,৯৪৮)। ৯. মাগুরা (৯ম): পাসের হার ৩৭.৩৬%। ৬,৩৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ২,৪৪৯ জন (ছাত্র ৯৫১, ছাত্রী ১,৪৯৮)। ১০. নড়াইল (১০ম): পাসের হার ৩৬.৭৮%। ৪,৮২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছেন ১,৭৭৬ জন (ছাত্র ৬২৩, ছাত্রী ১,১৫৩)।
বোর্ডের অধীনে মোট ১০টি জেলার ২৪০টি কেন্দ্রে ৫৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১,১২,৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে সামগ্রিকভাবে পাস করেছেন ৫০,০৬৮ জন এবং সার্বিক পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ।
চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ও জিপিএ-৫
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত চার বছরের (২০২৩ থেকে ২০২৬) উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার তুলনামূলক ফলাফল বিশ্লেষণে চলতি ২০২৬ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
২০২৩ সাল: এই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১,০৯,৬৩৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছিলেন ৭৬,৬১৫ জন এবং সার্বিক পাসের হার ছিল ৬৯.৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন মোট ৭,৮০৮ জন।
২০২৪ সাল: মোট ১,২২,৫১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন ৭৮,৭৬৪ জন। পাসের হার ছিল ৬৪.২৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পান ৯,৭৪৯ জন।
২০২৫ সাল: মোট ১,১২,৫৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৬,৫০৯ জন। সে বছর পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫০.২০ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ পান ৫,৯৯৫ জন।
২০২৬ সাল: চলতি বছরে মোট ১,১২,৭৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ৫০,০৬৮ জন। এতে বোর্ডের সার্বিক পাসের হার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯২ শতাংশে, যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। পাশাপাশি, এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩,২২৮ জনে।
বিভাগভিত্তিক তুলনামূলক অবস্থা (২০২৬): চলতি বছরের ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭০.০৩% (পাস ১৫,১৬৭ জন, জিপিএ-৫ ১,৮৫৮ জন)। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮.২১% (পাস ৩০,১৯১ জন, জিপিএ-৫ ১,১৬৫ জন) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৪৩.৮৩% (পাস ৫,৩১০ জন, জিপিএ-৫ ২০৫ জন)। বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রতিটি বিভাগেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
১৫টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বোর্ডের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মোট ১৫টি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি—অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ‘শূন্য শতাংশ’।
আজ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ‘শূন্য পাস’ করা কলেজের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শূন্য পাস করা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তালিকা:
১. হাজী নূরুল ইসলাম কলেজ, মিরপুর, কুষ্টিয়া) – মোট পরীক্ষার্থী ৮ জন, পাস ০ জন। ২. মোরকা জাগরণ কলেজ (গাংনী, মেহেরপুর) – মোট পরীক্ষার্থী ১ জন, পাস ০ জন। ৩. মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ) – মোট পরীক্ষার্থী ১৯ জন, পাস ০ জন। ৪. মডেল মহিলা কলেজ (ডুমুরিয়া, খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ৩ জন, পাস ০ জন। ৫. বুজড়ুক শ্রীকুন্ডী কলেজ (মাগুরা সদর, মাগুরা) – মোট পরীক্ষার্থী ১৫ জন, পাস ০ জন। ৬. সবুজ পল্লী কলেজ (মনিরামপুর, যশোর) – মোট পরীক্ষার্থী ৭ জন, পাস ০ জন। ৭. ইন্ডিপেন্ডেন্স আইডিয়াল কলেজ (খুলনা সদর, খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ১১ জন, পাস ০ জন। ৮. ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা) – মোট পরীক্ষার্থী ৩ জন, পাস ০ জন। ৯. জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (কুমারখালী, কুষ্টিয়া) – মোট পরীক্ষার্থী ১ জন, পাস ০ জন। ১০. গোপীনাথপুর এম. এ. খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মহম্মদপুর, মাগুরা) – মোট পরীক্ষার্থী ২ জন, পাস ০ জন। ১১. কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির (পাইকগাছা, খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ৩ জন, পাস ০ জন। ১২. কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কয়রা, খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ২৭ জন, পাস ০ জন। ১৩. কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস (রূপসা, খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ১ জন, পাস ০ জন। ১৪. মাকড়াইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট (লোহাগড়া, নড়াইল) – মোট পরীক্ষার্থী ৪৩ জন, পাস ০ জন। ১৫. খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (খুলনা) – মোট পরীক্ষার্থী ১২ জন, পাস ০ জন।