নিজস্ব প্রতিবেদক
মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০০ এর বেশি শিক্ষার্থী ছবি: ধ্রুব নিউজ
শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই, জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে যশোরের অভয়নগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের অভয়নগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ পরীক্ষায় উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলে এক ঘণ্টাব্যাপী। চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত পরীক্ষায় ১০০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নের মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হয়। বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়।
পরীক্ষায় অংশ নিতে সকাল ৭টা থেকেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে উপস্থিত হন অভিভাবকেরাও। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র এলাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরীক্ষা ঘিরে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের যশোর জেলা শাখার সদস্যসচিব মো. আবু জাফর এবং অভয়নগর উপজেলা পরিচালক মো. সাকিব হোসাইন। কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তাজমিনুর রহমান।
পরীক্ষা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে নিজেদের মেধা যাচাই ও জ্ঞান বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করে। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে পাঠ্যসূচির বাইরেও কিছু প্রশ্ন ছিল বলে মন্তব্য করে।
অভিভাবকেরা এ ধরনের আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করে তুলবে। একই সঙ্গে তাদের সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তির বিকাশেও ভূমিকা রাখবে। তবে বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে পরীক্ষা পরিদর্শকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এ আয়োজনকে সাফল্য এনে দিয়েছে। বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। কোনো ধরনের লটারি নয়, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে মেধাতালিকা প্রণয়ন ও বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আয়োজকদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও মেধার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।