ধ্রুব ডেস্ক
বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায় শরণখোলা এলাকায় ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের কোলঘেঁষা লোকালয়ে বাঘের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্ক ও ভীতি বিরাজ করছে বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায়। গত দশ দিন ধরে অন্তত পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দা সন্ধ্যার পর আর ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। সর্বশেষে ধানক্ষেতের কাছে বাঘের বাচ্চা দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বনবিভাগ এলাকাটিতে ড্রোন উডিয়ে বাঘের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ অক্টোবর সকালে, যখন পানিরঘাট এলাকায় প্রথম বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান গ্রামবাসীরা। এরপর থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের শরণখোলা, সোনাতলা, পূর্ব সোনাতলা, মডেলবাজার এবং পানিরঘাট গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন থমকে গেছে। রাত নামলেই এই অঞ্চলগুলোতে নেমে আসে গভীর নিস্তব্ধতা ও ভয়। গ্রামবাসীর ধারণা, প্রায় দশ দিন আগে সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী সাঁতরে একটি বাঘ তার বাচ্চাসহ লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, বাগান ও ধানক্ষেতে ওই বাঘ এবং তার বাচ্চার পায়ের স্পষ্ট ছাপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি কৌতুহলী কেউ কেউ মাটির সেই পায়ের ছাপ কেটে সংরক্ষণ করছেন বলেও জানা গেছে।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে শরণখোলা গ্রামের মহিউদ্দিন খান নামের এক বাসিন্দা বাড়ির পাশের পুকুরে হাঁসের অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখে এগিয়ে যান। তখন তিনি পুকুরপাড়ে একটি বাঘের বাচ্চা দেখতে পান বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে লোকজনের চিৎকারে বাচ্চাটি পাশের ধানক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে।
ঘটনার তীব্রতা উপলব্ধি করে বনবিভাগ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, লোকালয়ে বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং অবস্থান চিহ্নিত করতে একাধিকবার ড্রোন ব্যবহার করে ধানক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ড্রোনে বাঘের কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক রাখতে মাইকিং করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বনরক্ষীদের পাশাপাশি ভিটিআরটি (ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম) ও সিপিজি (কমিউনিটি টহল দল) সদস্যদের দিনরাত সার্বক্ষণিক পাহারায় নিযুক্ত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই লোকালয়ে টহল ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি নিজে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। বর্তমানে বনবিভাগের বেশ কয়েকটি টিম এলাকাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।