নিজস্ব প্রতিবেদক
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসারকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী একটি চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক ১০ জনের নাম উল্লেখ করে যশোরের আদালতে দণ্ডবিধির ৩৮৯/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। "মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান সোহাগ।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বাদীর পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তার ১৭ বছর বয়সী শ্যালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আবেগপ্রবণ পোস্ট করে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ওই চিকিৎসককে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন।
গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বদেশ বিচিত্রা’র সাংবাদিক পরিচয়ে আসিফ আকবর সেতু নামক ব্যক্তি চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শ্যালিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ রাতে ‘এশিয়ান টেলিভিশন’ এর পরিচয়ে হাসিবুর রহমান শামীম এবং ‘ডিবিসি নিউজ’ এর সাংবাদিক পরিচয়ে সাকিরুল কবীর রিটন সহ অন্যান্যরা ওই চিকিৎসকের কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে চাকরিচ্যুত করার এবং ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা বাদীর নাবালিকা শ্যালিকাকে ফুসলিয়ে মণিরামপুরে এনে তহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রাখেন। সেখানে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে। পরবর্তীতে গত ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেয়েটিকে থানায় আটকে রেখে একটি মিথ্যা বয়ান দিতে বাধ্য করা হয়। এ সময় জনৈক আঃ হাই মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চিকিৎসকের কাছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন, যার অডিও রেকর্ড বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে।
আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের শ্যালিকা সামিয়া আফরোজ গত মাসে যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্ররোচিত করে তার দুলাভাইয়ের (মেডিকেল অফিসার) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করানো হয়েছিল। মূলত অর্থ আদায়ের লক্ষ্যেই সাংবাদিক নামধারী এই চক্রটি তাকে ব্যবহার করেছে।
চিকিৎসক জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও কল রেকর্ড সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।