Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

হাঁসফাঁস গরমে স্বস্তির নাম তালের শাঁস, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নব প্রাণ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে,২০২৬, ১০:১৯ পিএম
হাঁসফাঁস গরমে স্বস্তির নাম তালের শাঁস, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নব প্রাণ

বাজারজুড়ে বাড়ছে তালের শাঁসের কদর। ছবি: ধ্রুব নিউজ

প্রচণ্ড গরমে এক টুকরো স্বস্তির খোঁজে মানুষ যখন ছুটছে নানা মৌসুমি ফলের দিকে, তখন বাজারজুড়ে বাড়ছে তালের শাঁসের কদর। স্বচ্ছ, নরম ও রসালো এই ফলটি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও যোগ করে নতুন মাত্রা। যশোরের বেনাপোল ও শার্শা অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।

স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তার পাশে, বাজারের প্রবেশমুখে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসছে তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান। গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষ স্বস্তি খুঁজতে ভিড় করছেন এসব স্থানে। বিক্রেতাদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো।

তালগাছ বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি পরিচিত অনুষঙ্গ। মাঠের আইল, গ্রামের রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে কচি তাল থেকে পাওয়া যায় এই সুস্বাদু শাঁস।

বেনাপোল বাজারের বিক্রেতা আব্দুল জলিল বলেন, “গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের চাহিদাও তত বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।”

শার্শা উপজেলার গোগা এলাকার তাল সংগ্রহকারী সাইদুর রহমান জানান, বছরের এই সময়টাতে তালগাছে উঠে কচি ফল সংগ্রহ করেন তারা। পরে বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচে কিছুটা সহায়তা পান। অনেক পরিবারের জন্য এটি মৌসুমি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

পুষ্টিবিদদের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পানি, প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে এবং গরমে শরীরকে শীতল রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে।

শুধু তালের শাঁসই নয়, তালগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই মানুষের কাজে লাগে। পাকা তাল দিয়ে তৈরি হয় পিঠা, বড়া ও পায়েস। তালরস থেকে তৈরি হয় গুড়। আবার তালপাতা ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন হস্তশিল্প- যেমন হাত পাখা ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গাছ হারিয়ে গেলেও এখনও গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে টিকে আছে তালগাছ। নতুন করে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ বাড়লে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন তারা।

গ্রীষ্মের দাবদাহে তাই তালের শাঁস শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, পুষ্টি এবং হাজারো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অনন্য সম্পদ।

ধ্রুব/এস.আই

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)