Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কোরবানির চামড়ার দাম কেউ শুনছে না, সরাসরি দিয়ে দিচ্ছে মাদ্রাসা এতিমখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে,২০২৬, ০৫:০০ পিএম
কোরবানির চামড়ার দাম কেউ শুনছে না, সরাসরি দিয়ে দিচ্ছে মাদ্রাসা এতিমখানায়

ভ্যান বোঝাই চামড়া ছবি: সংগৃহীত

যশোরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। সরকার এবার লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও স্থানীয় বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। আড়তদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পানির দরে দাম হাঁকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন কোরবানিদাতারা।  কোরবানিদাতাই দাম না শুনে বিনাদ্বিধায় চামড়া সরাসরি স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করে দিচ্ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে চামড়া কেনাবেচায় এই চিত্র দেখা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করলেও কাঁচা চামড়ার বাজারে আড়তদাররা সেই হিসাব মানছেন না। যশোর ও আশপাশের এলাকায় ছোট ও মাঝারি আকারের কাঁচা চামড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি দাম দিতে চাচ্ছেন না ক্রেতারা। এমনকি বড় আকারের ভালো চামড়ার দামও মিলছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কেউ ৫-১০ টাকাতেও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

শহরের লোহাপট্টি ও চারখাম্বা মোড় এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে আসা একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস চামড়ায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম দাম বলা হচ্ছে। আড়তদারদের দাবি, লবণ, রাসায়নিক ও শ্রমিকের মজুরিসহ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় এবং ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে উপযুক্ত দামের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না।

চামড়ার এই নামমাত্র দামের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কোরবানিদাতারা। শহরের ঘোপ এলাকার বাসিন্দা এক কোরবানিদাতা জানান,  "মাঝারি সাইজের একটা গরুর চামড়ার দাম  মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চাচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই দাম না শুনেই মহল্লার মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় চামড়াটা দিয়ে দিলাম। অন্তত এতিম বাচ্চাগুলোর কাজে লাগবে।"

একই চিত্র দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও। কোরবানি শেষ হওয়ার পর দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করছেন। দাম কম হওয়ায় কোরবানিদাতারাও দরদাম না করে চামড়াগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ব্যক্তিগত বা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চামড়া বিক্রির চেয়ে এবার সরাসরি মাদ্রাসায় দান করার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজ সন্ধ্যা নাগাদ আড়তগুলোতে লবণযুক্ত চামড়া পুরোদমে আসতে শুরু করলে বাজারের প্রকৃত অবস্থা এবং চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কতটা পূরণ হলো তা স্পষ্ট জানা যাবে। তবে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঙ্ক্ষিত আয় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)