নিজস্ব প্রতিবেদক
আগুন লাগার ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারা দিতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যশোরের বকুলতলায় ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে এবং জেলাজুড়ে অভিযান চালিয়ে নাশকতার অভিযোগে ৪১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে (সোমবার ভোররাত) দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পর তিন যুবককে মূল বেদি থেকে নেমে চলে যাচ্ছে। এ সময় তাদের মুখে ‘শেখ হাসিনা’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়। পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রচার করেন।
সোমবার সকালে স্মৃতিস্তম্ভটির দক্ষিণ পাশে আগুনে পোড়ার কালো চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার সন্ধ্যার পর থেকেও স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তবে রাতে দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং শহরে সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের প্রেক্ষাপটে কোতোয়ালি থানাসহ জেলার নয়টি থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।