আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
রেকর্ড বৈরী আবহাওয়া, প্রাণঘাতী পশুরোগ ও বিশ্বরাজনীতির প্রভাবে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় কৃষিসংকটের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। কৃষকদের চরম অর্থসংকট এবং জমিতে শস্য বোনার অক্ষমতার কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির ডজনেরও বেশি কৃষি সংগঠন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আগামী বছরের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের পর ব্রিটিশ কৃষি খাত এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে আর পড়েনি। অতিরিক্ত খরা ও দাবদাহের কারণে চলতি মৌসুমে গম, বার্লি, ওটস ও তৈলবীজের মোট উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১৯.৫ মিলিয়ন টনে, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন। খরার প্রভাবে আলু ও গাজরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। একদিকে দেরিতে বৃষ্টি ও ফলন বিপর্যয়, অন্যদিকে গবাদিপশুর মধ্যে ‘ব্লুটাং’ ভাইরাসের প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব কৃষকদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। ‘মিজ’ নামক পোকার মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগে ইতোমধ্যেই ৫০০টিরও বেশি সংক্রমণের খবর মিলেছে, যার বড় অংশই ওয়েস্ট কান্ট্রি এলাকায়। এর ফলে ভেড়াসহ বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটছে ও প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক চাপ। ইরান কেন্দ্রিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রতি টন সারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬০ পাউন্ডে। একই সঙ্গে চড়া রেড ডিজেলের দাম এবং উৎপাদিত ফসলের নিম্ন্যমানের কারণে বাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ না পাওয়ায় কৃষকদের হাতে কোনো নগদ অর্থ অবশিষ্ট নেই। ফলে নতুন মৌসুমে মাঠে বীজ বপন করা কিংবা মারা যাওয়া গবাদিপশুর শূন্যস্থান পূরণ করার মতো মূলধন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নেই।
ন্যাশনালি ফার্মার্স ইউনিয়নের (এনএফইউ) সভাপতি টম ব্র্যাডশ এবং কান্ট্রি ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস গ্রুপের সভাপতি গ্যাভিন লেন সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশের কৃষকেরা এখন চরম আস্থাহীনতা ও খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছেন। এর সাথে উত্তরাধিকার কর বা ‘ফ্যামিলি ফার্ম ট্যাক্স’-এর অর্থনৈতিক চাপ কৃষকদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকার করে তুলেছে।
এই চরম ক্রান্তিলগ্নে কৃষি খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণের আকুল আবেদন জানিয়েছে এনএফইউসহ ডজনখানেক সংগঠন। পাশাপাশি মৃত গবাদিপশু অপসারণ ও সৎকারের ব্যয় বহনে সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে আগামী বছরের খাদ্য উৎপাদনের চাকা সচল রাখা সম্ভব হয়।