আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ছবি: রয়টার্স
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে পুনরায় বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে আপাতত খুব একটা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক 'চমৎকার' হলেও নতুন কোনো আলোচনার আগে ওয়াশিংটনকে কঠিন কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি 'শত্রুতামূলক' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে নতুন শীর্ষ সম্মেলনের ইঙ্গিত দেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যেই ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে চাইছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সরাসরি পাত্তাই দেননি কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। মার্কিন মহড়ার পরিধি কমানোকে কোনো 'সদিচ্ছার ইঙ্গিত' হিসেবে মানতে নারাজ তিনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-তে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানান, উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন নীতি এখনো বজায় রয়েছে। তিনি দুই নেতার মধ্যে কোনো যোগাযোগের খবর অস্বীকার করলেও স্বীকার করেন যে, ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ ভালো। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে উত্তর কোরিয়া নিজের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থে কোনো ছাড় দেবে না।
কিম ইয়ো জংয়ের এই বিবৃতির আবহেই পূর্ব উপকূলে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদেই পিয়ংইয়ং এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হলে ওয়াশিংটনকে মূলত দুটি বড় শর্ত পূরণ করতে হবে—উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে বৈরী নীতি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা এবং পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়ে নিরস্ত্রীকরণের দাবি ত্যাগ করা। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনগুলোর তুলনায় পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান এখন অনেক বেশি শক্ত। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো হওয়ায় আগের মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য উত্তর কোরিয়াকে মরিয়া হতে হচ্ছে না।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। বরং কিম ইয়ো জংয়ের এই বিবৃতির মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী দিনের সম্ভাব্য আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও নমনীয় হতে বাধ্য করা।