Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা ইসরায়েলের, সেনার বদলে মোতায়েন হচ্ছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ আগস্ট,২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা ইসরায়েলের, সেনার বদলে মোতায়েন হচ্ছে পুলিশ

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে বেসামরিক পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ পদক্ষেপকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি এই ভূখন্ডটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শুক্রবার জানিয়েছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেসামরিক বিষয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তিনি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কাটজের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় পুলিশ বেসামরিক বিষয়গুলো পরিচালনা ও সমাধানের জন্য একটি উপযুক্ত বাহিনী গঠন করবে। অন্যদিকে, সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সীমান্ত ও জনপদগুলোর সুরক্ষায় মনোনিবেশ করবে।

 
কাটজ দাবি করছেন যে, পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষের কাজকর্ম বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সব জায়গাতেই পুলিশই এ ধরনের দায়িত্ব নিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের দেখভাল করে। তাই পশ্চিম তীরেও ঠিক একইভাবে তাদেরই এ দায়িত্ব পালন করা উচিত।

ঘোষণাটি সামরিক বাহিনী বা পুলিশ কোনও পক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় করে দেওয়া হয়নি। তবে, ইসরায়েল হায়োম সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তারা এর জন্য চাপ দিচ্ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুলিশবাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও জানতেন না যে এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা আসছে। বেন-গভির এখনও পরিকল্পনাটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে বসতি স্থাপনকারী নেতাদের অন্য কয়েকজন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।


পশ্চিম তীরের বিনইয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গানজ বলেন, কাটজের ঘোষণার পর অসলো চুক্তি বাতিল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। তিনি বলেন, “অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে এখন ইসরায়েলের আইন পুরোপুরি প্রয়োগের সময় এসে গেছে।”

সেনাবাহিনীর অনুরোধ

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই নেট জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘোষণার পেছনে রয়েছে সেনা প্রধান আইয়াল জামিরের অনুরোধ। পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর কাজের চাপ কমাতে তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন।

দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভাকে জামির জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কারণ, শিগগিরই নতুন বসতি স্থাপন হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রীদেরকে জামির বলেছিলেন, “যেসব গুটিকয়েক লোক বসতিগুলোর নাম খারাপ করছে তাদের পেছনে ছুটে বেড়ানো আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সেনাদের জন্য অসহনীয়।

তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে কাজ করছে। কিন্তু এ ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরে আসাটাই যথাযথ হবে।”

শুক্রবার ওয়াই নেটকে এক বক্তব্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম তীরে ‘নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের বিভাজন’ পর্যালোচনার জন্য সেনাবাহিনী ‘অভ্যন্তরীন ও প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মী-পর্যায়ের কাজ’ পরিচালনা করছে।

ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেনি। ১৯৬৭ সাল থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। তবে গত এক বছরে ইসরায়েল সরকার এমন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে যেগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যত ভূখন্ডটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ারই সমতুল্য।

এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর পরিচালনায় বেসামরিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ানো এবং যেসব ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত, সেসব ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমিয়ে আনা।

ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পশ্চিম তীরে দখলদার হিসেবে সেনাবাহিনীই দায়িত্ব পালন করে এবং বেসামরিক বিষয়সহ সেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে।

পশ্চিম তীরজুড়ে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের সেখানে পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার ওই ঘোষণা এসেছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)