Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পশ্চিমবঙ্গে বিষণ্ন ঈদুল আজহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে,২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে,২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে  বিষণ্ন ঈদুল আজহা

ছবি: সংগৃহীত

এ বছর কলকাতার চেনা ছবিটা হঠাৎ করেই বদলে গেল। রেড রোডে ঈদের ঐতিহাসিক নামাজ এবার অনুষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগের আঙুল উঠেছে শুভেন্দুর বিজেপি সরকারের দিকে, যারা এই ঐতিহাসিক আয়োজন হতে দিল না। ফলে ঈদের মূল জামাত এবার স্থানান্তরিত হয়েছে ব্রিগেড ময়দানে।

আজ ঈদের জামাত শুরু হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। নামাজে ইমামতি করেন ইমামে ঈদাইন ক্বারী ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতি বছরের সেই পরিচিত চেনা ভিড়টা আজ ছিল না। মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক অনেকটাই কম। সমবেতদের চোখে-মুখে ছিল না কোনো চেনা উৎসাহ বা উদ্দীপনা। উৎসবের সেই চিরাচরিত ঢেউ এবার যেন কোথায় হারিয়ে গেছে; এক অব্যক্ত বিষাদে আজ প্রতিটি হৃদয় ভারাক্রান্ত। যেখানে প্রতি বছর দেড়-দুই লাখ মানুষের সমাগম হতো, সেখানে আজ মাত্র কয়েক হাজার মানুষ হাজির হয়েছিলেন ঈদের জামাতে। শুধু তাই নয়, রাজ্যজুড়ে কোরবানিও ছিল প্রায় বন্ধের মুখে। পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আজ উৎসবের জৌলুস গায়েব।

রেড রোডের ঈদের জামাতের রয়েছে এক সুদীর্ঘ এবং ঐতিহাসিক পটভূমি। ব্রিটিশ আমলে খিলাফত কমিটির উদ্যোগে এখানে প্রথম ঈদের নামাজ শুরু হয়। তখন আজকের এই ঝকঝকে পিচঢালা রাস্তা ছিল না। পরবর্তীতে কলকাতা মহানগরীর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে ব্রিটিশরা তৈরি করে আজকের এই 'রেড রোড'। খিলাফত কমিটি তখন এই আধুনিক রাস্তায় নামাজ পড়তে কোনো আপত্তি করেনি। আবার ব্রিটিশ সরকারও কখনো ব্রিগেড মাঠে নামাজ পড়ার জন্য মুসলমানদের ওপর জোর খাটায়নি; বরং তারা রেড রোডেই নামাজ পড়ার ঐতিহাসিক অধিকার বহাল রেখেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সেই সম্প্রীতির রীতিই সগৌরবে বহাল ছিল।

সবকিছুরই তো একটা গভীর শিকড় থাকে। এই ইতিহাসের শিকড় খুঁজতে আমাদের একটু নবাবী আমলে ফিরে যেতে হবে। বঙ্গ-বিহার-ওড়িশার তৎকালীন নবাব আলীবর্দী খাঁ এক বিশাল সম্পত্তি ওয়াকফ বা দান করে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল বর্তমানের ফোর্ট উইলিয়াম, ব্রিগেড মাঠ, ময়দান, বাবুঘাট, ইডেন গার্ডেন, আকাশবাণী ভবন, বিধানসভা ভবন, রাজভবন এবং মহাকরণ। সব মিলিয়ে মোট ২৫৫৫ বিঘা জমি। হুগলি জেলার মৌলানা আমসুদ্দিন ও মৌলানা মসিউদ্দিনকে এই জমি দান করা হয়েছিল।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ শাসন কায়েম হলেও, কোম্পানি সরকারকে এই জমির ভাড়া মেটাতে হতো। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যিনি এই ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণকারী বা 'মোতোয়ালি' ছিলেন, তাঁকে নিয়ম করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ তদারককারী আবুল‌ বরকত মারা যাওয়ার পর থেকে আর কোনো ভাড়া পাওয়া যায়নি। শুনলে আজ অবাক হতে হয়, খোদ রাজভবন থেকেও এই বিশাল জমির জন্য মাসিক ভাড়া দেওয়া হতো মাত্র ১৯৯ টাকা!

আজ এই কলকাতা শহরের বুকে বহু মূল্যবান ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখল হয়ে পড়ে আছে। জবরদখলকারীদের দৌরাত্ম্য চলছে সর্বত্র। অথচ সাচার কমিটির রিপোর্টের অন্যতম প্রধান সুপারিশ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছিল, এই ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো উদ্ধার করে বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে লাগাতে হবে এবং মুসলিমদের শিক্ষা বিস্তারে ব্যবহার করতে হবে। সাচার কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের আজ প্রায় ২০ বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কি সেই সুপারিশ আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে? আজ এই বড় প্রশ্নটিই সবার মনে দেখা দিচ্ছে।

ইতিহাস কেবলই বঞ্চনার নয়, আমাদের ইতিহাস ছিল প্রবল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও। নবাবী আমলেরও আগে, কলকাতা যখন মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, তখনকার একটি ঘটনা স্মরণ করা যাক। সম্রাট জাহাঙ্গীর কালীঘাটের মন্দিরের উন্নয়নের জন্য জমি দান করেছিলেন। আবার এই কলকাতারই পার্ক সার্কাস এলাকার বীরেশ গুহ রোডের শিবমন্দির তৈরির জন্য জমি দিয়েছিলেন স্থানীয় মুসলিমরা।

একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই ইতিবাচক ও গৌরবময় ইতিহাসগুলো আজ বড় বেশি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানের কোলাহল আর রাজনীতির ভিড়ে সেই মিলনের সুর আর সহজে শোনা যায় না। চারদিকে আজ পড়ে থাকে কেবল বিষাদ, আর পড়ে থাকে উৎসবের জৌলুসহীন এক ধূসর ব্রিগেড ময়দান।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)