পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রভাবিত বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। গতকাল সোমবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনের ২০৬টিতে দলটি বিজয়ী হয়েছে। বিপরীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৭৮টি আসনে; এগিয়ে আছে তিনটিতে। এতে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ আসন ভবানীপুরে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্য ৫০ বছর পর পাচ্ছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার (ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার)। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বে গঠিত কংগ্রেস সরকার ১৯৭৭ পর্যন্ত ডাবল ইঞ্জিন হিসেবে কার্যকর ছিল। সিদ্ধার্থ শংকরের কংগ্রেস সরকারের পতনের পর যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ মেয়াদে রাজ্য শাসন করে। এ জয়কে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলায় পদ্ম ফুটেছে। অন্যদিকে নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়। রাজ্যজুড়ে ৭৭টি গণনাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। শুরুতে তৃণমূল ও বিজেপি কাছাকাছি ব্যবধানে থাকলেও দিন গড়ালে তা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ সিপিএম একটি ও কংগ্রেস দুই আসনে জয় পেয়েছে। তিন আসনে স্বতন্ত্র বা অন্য দলের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ১৪৮ বিধানসভা আসন। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ও ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হয়। চব্বিশ পরগনা জেলার ফলতা আসনের ভোট গণনা হয়নি। সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে।
বিজেপির বিপুল জয়ে অভিভূত নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে; বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’ মোদি লিখেন, ‘জনগণ বিজেপির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় দিয়েছে; আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি– আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’ বিজেপি নেতা ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখেছেন, ‘এই বিপুল গণরায় ভয়, তোষণ ও অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব।’
এদিকে গতকাল বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি গণনাকেন্দ্রে গিয়ে বিজেপিকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, একশটির বেশি আসন লুট করা হয়েছে।
ভোটের ফল সামনে আসতেই কলকাতা থেকে সর্বত্র বিজেপিকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। পাশাপাশি সিঙ্গুরে ঝালমুড়ি বানিয়ে ভাগ করে খান বিজেপিকর্মীরা। দেড় দশক আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের। সেই সিঙ্গুরেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটিয়ে উত্থান হলো বিজেপির। রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে পেছনে ফেলে বিজেপির প্রার্থী অরূপ কুমার দাস এগোতেই আনন্দে ঝালমুড়ি বানিয়ে ভাগ করে খেলেন বিজেপিকর্মীরা।
বুলডোজার নিয়ে অভিনব উপায়ে জয়ের আনন্দে মাতলেন মালদহ বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একাধিক ডিজে বাজনা ও চলছে আবির খেলা। এমনকি দলটির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। দলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে মিষ্টিমুখ করান। এরপর বাজনার তালে তালে নৃত্য করতে দেখা যায় সাবেক এই কূটনীতিককে।
এবার নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন ভবানীপুর। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতাকে হারিয়েছেন প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ইতোমধ্যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি হারিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করকে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু।
ব্যাপক সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর আসতেই বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ গণনা কেন্দ্রে নোয়াপাড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরে তৃণাঙ্কুরকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ গণনা কেন্দ্রেই বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ কেন্দ্রেই ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ঘিরে ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। বর্ধমানের এমবিসি গণনা কেন্দ্রের বাইরেও উত্তেজনা ছড়ায়। বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্টকে পিটিয়ে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।
কোথাও আবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই কাঁথি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। পরে তৃণমূলের প্রতীকে গেরুয়া রং লাগিয়ে সেই কার্যালয়ের দখল নেন তারা। পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া ও বারাবনিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।
বিজেপির জয়ের খবর আসার পর দুপুরে আচমকাই রাজ্যের সচিবালয় নবান্নের কাছে যান বিজেপির নারী কর্মীরা। মুখে আবির মেখে ও হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে নবান্নের সামনে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। কিছু সময় সেখানে থাকার পর পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
নির্বাচনে তৃণমূলের এমন বিপর্যয় প্রসঙ্গে দলটির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সৌগত রায় বলেন, ‘২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিপিআইএম প্রার্থী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হেরে গিয়েছিলেন। রাজনীতিতে এটা হয়েই থাকে। এসআইআর ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়নি। অনেক ভোট কমে গেছে।’
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়ের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলকর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর চলছে। পুলিশ সহযোগিতা করছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরছেন না। ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এবার ভোটে পশ্চিমবঙ্গে দুই হাজার ৯০০-এর বেশি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে। হেরে গেছেন রাজ্য কংগ্রেসের বড় নেতা অধীরঞ্জন চক্রবর্তী। তবে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া হুমায়ূন কবীর জয়ী হয়েছেন।
মমতার হারের নেপথ্যে
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের এই রাজ্যে দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় মমতার দল। বিজেপি প্রথমবারের মতো সেখানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যজুড়ে এক নামে পরিচিত (দিদি) মমতার দলের বড় বিপর্যয়ের কারণ কী? বিষয়টি বুঝতে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই এগুলোকে ফলাফল নির্ধারণের ‘ফ্যাক্টর’ বলা হচ্ছিল। এর মধ্যে আছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন করা আসন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহ্যগতভাবে প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার তৃণমূল কংগ্রেসের বড় শক্তির জায়গা। এবারের নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৫৪টিকে মুসলিম অধ্যুষিত আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এগুলোতে ২০২১ সালের তুলনায় এবার বিজেপি বড় চমক দেখিয়েছে। তৃণমূল বা টিএমসি বিগত নির্বাচনের তুলনায় এসব অঞ্চলে কেবল বিজেপির কাছেই ১১টি আসন হারিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে টিএমসির প্রাপ্ত আসন ছিল ৫২টি। এবার তারা পেয়েছে ৩৬টি। বিজেপি গত নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র ১টি, এবার পেয়েছে ১২টি।
নির্বাচনের আগে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। বিবিসির তখনকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথাকথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের’ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশোধন কার্যক্রম চালানো হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়, সে অনুযায়ী বিবেচনাধীনসহ বাদ পড়েন প্রায় এক কোটি ভোটার।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব যেসব আসনে বেশি পড়েছে এমন আসন ৯৪টি। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সংশোধনের আগে, অর্থাৎ ২০২১ সালের নির্বাচনে এসব অঞ্চলে টিএমসির প্রাপ্ত আসন ছিল ৭২টি। এবার পেয়েছে মাত্র ৩০টি। বিপরীতে গত নির্বাচনের ২২টির বিপরীতে বিজেপি এবার পেয়েছে ৬৩টি। এ ছাড়া মতুয়া অধ্যুষিত ১১টি আসনের ভোটের ফলাফলে এবার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিজেপি ১০টিই ধরে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন বিজেপির একটি বড় ভোটব্যাংক।
পশ্চিমবঙ্গে গত তিনটি নির্বাচনে ১০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে– এমন আসন ৩৮টি। সেগুলোতে এবার দলটি এগিয়ে আছে মাত্র ১৬টিতে। বিজেপি এগিয়ে আছে ২১টিতে। এ ছাড়া ‘বেলওয়েদার’ হিসেবে পরিচিত ১২৪ আসনের মধ্যে টিএমসি ৫৪ ও বিজেপি ৭০টিতে এগিয়ে। ভোটের মাঠে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বেলওয়েদার অঞ্চল বা আসন চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত বছরের পর বছর যেসব আসনে বেশি ভোট পাওয়া দল সরকার গঠন করে সেগুলোকে বেলওয়েদার বলা হয়।
এর বাইরে সবচেয়ে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১১৯টি আসন। এগুলোর মধ্যে বিজেপি ১০২টিতে এগিয়ে। বিপরীতে তৃণমূল এগিয়ে ছিল মাত্র ১৭ আসনে।
কেজরিওয়াল ‘অ্যাফেক্ট’
এক সময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে দল বদলানোর পর এবারের নির্বাচনে তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। তিনি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার নিজের আসন ভবানীপুরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট বলছে, এই কৌশলটি মূলত ২০১৫ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুরু করেছিলেন। শীলা দীক্ষিতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নয়াদিল্লি আসনে কেজরিওয়াল নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন।
ভবানীপুরে শুভেন্দুকে প্রার্থী করার মাধ্যমে বিজেপি মূলত মমতাকে নিজের আসন রক্ষায় বেশি সময় দিতে বাধ্য করেছে। ফলে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি যথেষ্ট সময় পাননি।
ধর্ষণকাণ্ড ও ভোট
পশ্চিমবঙ্গে টিএমসির নির্বাচনী সাফল্যের নেপথ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নারী ভোটাররা বড় ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত ১০ বছরে নারীদের জন্য বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল দলটি। এর মধ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এবারের নির্বাচনী মাঠে বিজেপি নারীর নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু করে তোলে। বিশেষ করে আরজি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি তারা সামনে নিয়ে আসে। এমনকি এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মাকে একটি আসনে (পানিহাটী) প্রার্থী বানিয়েছে বিজেপি।
নির্বাচনী ইশতেহারে নারীদের জন্য বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি। এর মধ্যে আছে– মাসিক তিন হাজার টাকা সহায়তা, বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা। এ ছাড়া নারীদের নিরাপত্তায় আলাদা পুলিশ স্টেশন এবং ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
মাছ ও ঝাল-মুড়ি
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। বিজেপিকে উত্তর ভারতের একটি দল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। বলেছে, তারা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বোঝে না। এমনকি বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে বলেও বারবার অভিযোগ তোলা হয়।
এবারের নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি এই বিষয়কেও গুরুত্ব দেয়। ভোটারদের আশ্বস্ত করতে বিজেপির অনেক নেতাকে প্রকাশ্যে মাছ খেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন। তিনি কলকাতার ৩০০ বছরের পুরোনো ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শনে যান। প্রসাদ হিসেবে আমিষ দেওয়ার জন্য এই মন্দিরটির বিশেষ ঐতিহ্য আছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্দির পরিদর্শনকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়েছে।
এ ছাড়া নরেন্দ্র মোদির ঝাল-মুড়ি খাওয়ার ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক-নেতিবাচক আলোচনার ঝড় তুলেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তা ঠিকই ভোটারের কাছে পৌঁছে গেছে। বিজেপি বার্তা দিয়েছে– বাঙালিদের খাবার নিয়ে খবরদারি করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
আসামে ফের বিজেপি, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেস জোট
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ৯২টিতে। কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি; এআইইউডিএফ ২টি ও অন্যরা ১১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতিতে এসে প্রথম ভোটেই চমক দেখিয়েছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তাঁর দল টিভিকে ১০৭ আসনে জয় পেয়েছে। রাজ্যের ২৩৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি। প্রতিপক্ষ ডিএমকে জয় পেয়েছে ৭৩টি আসনে; এগিয়ে আছে ১টিতে। এআইডিএমকে জয় পেয়েছে ৫৩ আসনে। থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠন করতে হলে এআইডিএমকের সঙ্গে হয়তো জোট করতে হবে।
কেরালায় ১৪০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউডিএফ জয় পেয়েছে ৯৭টিতে। বিরোধী এলডিএফ ৩৫টিতে জয়ী হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩ আসনে ও অন্যরা জিতেছে ৫ আসনে। পদুচেরিতে ৩০ আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে এনডিএ জোট।