এম জামান
গরমে পানিতে খেলছে শিশুরা ছবি: এম জামান
যশোরে প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ছে জনপদ। টানা কয়েকদিন ধরে অব্যাহত এই দাবদাহে জেলার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে অবস্থান করায় পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। তবে এই দুঃসহ গরমের মধ্যে স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামীকাল রোববার যশোরসহ দেশের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবারও একই তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। তীব্র গরমে সকাল ১০টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বৈরী আবহাওয়ায় কৃষি খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে; ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
তাপদাহের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রতিদিন বাড়ছে গরমজনিত রোগীর চাপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা জ্বর, সর্দি-কাশি ও হিটস্ট্রোকজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আহসান কবির বাপ্পি জানান, এই সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বেশি করে পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ হতে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামীকাল রোববার যশোরসহ ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি নামলে তাপমাত্রার তীব্রতা কমে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।