Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বাড়ি ঘর শেষ, ভূগর্ভস্থ শেল্টার নির্মাণে অনুদান খুঁজছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ,২০২৬, ০৯:৫৯ এ এম
বাড়ি ঘর শেষ, ভূগর্ভস্থ শেল্টার নির্মাণে অনুদান খুঁজছে ইসরায়েল

ধুলিস্তাত হয়ে যাচ্ছে ইসরাইলের বাড়িঘর ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে দেশটির হাসপাতালগুলো এখন রোগীদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ শেল্টার ও সুরক্ষিত ভবন নির্মাণে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

গত ২৬ মার্চ ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট সম্প্রতি ব্যাপকভাবে কাটছাঁট করায় হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা অবকাঠামো তৈরি করতে পারছে না। বর্তমানে অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র তাদের স্টোরেজ রুম এবং পার্কিং লটগুলোকে অস্থায়ী ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। 

হাদেরার হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক মিকি দুডকিউইচ জানিয়েছেন, তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই রোগীদের উন্নত সেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত বর্ষণ এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ইসরায়েলের স্টেট কম্পট্রোলার মাতানিয়াহু এঙ্গলম্যানের দেওয়া এক তথ্যানুযায়ী, দেশের হাসপাতালগুলোর প্রায় ৫৬ শতাংশ শয্যা এবং ৪১ শতাংশ অপারেশন থিয়েটারে আদর্শ সুরক্ষা অবকাঠামো নেই। এই পরিস্থিতি মানসিক হাসপাতাল ও জেরিয়াট্রিক সেন্টারগুলোর ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ শয্যাই সম্পূর্ণ অরক্ষিত। 

গত জুন মাসে বিয়ারশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৮০ জন আহত হওয়া এবং আটটি অপারেশন থিয়েটার ধ্বংস হওয়ার ঘটনাটি সরকারের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা ছিল। এঙ্গলম্যানের হিসাব মতে, সারা দেশের হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত করতে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেকেল প্রয়োজন, অথচ সরকার উল্টো স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে ৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেকেল কর্তন করেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে হাইফার রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাসের মতো বড় হাসপাতালগুলো তাদের ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটকে আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে যুদ্ধের সময় ৯০০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মতো অনেক কেন্দ্রে নতুন সুরক্ষিত ভবন নির্মাণের কাজ অর্থের অভাবে মাঝপথে থমকে আছে। 

৪৫০ মিলিয়ন শেকেল ব্যয়ের এই প্রকল্পের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাত্র ১০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন বেসরকারি দাতাদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। জেরুজালেমের শ্যারে জেদেক মেডিকেল সেন্টারও তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা সিস্টেমগুলো ভূগর্ভে পরিচালনা করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহ করছে।

ভলফসন মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর ড. ইউভাল দাদোন জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে এত বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা কেউ আগে কল্পনা করেনি। হাসপাতালগুলো সাধারণত মাটির নিচে পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয় না, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের জীবন বাঁচাতে তারা স্টোরেজ স্পেসগুলোকে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করার মতো সৃজনশীল সমাধান খুঁজছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও দাতব্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে কিছু অনুদান দিলেও, সারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)