Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৪ মার্চ,২০২৬, ১০:২১ এ এম
ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ছবি: ধ্রুব নিউজ

ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এই মার্কিন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র এই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রগুলোর ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী গোষ্ঠী এবং ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়।

ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েক হাজার যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্তে সক্রিয়, বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে আসন্ন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে, ডজনখানেক ড্রোন দিয়ে কুর্দি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কুর্দি কর্মকর্তা। আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো কেডিপিআই। সিএনএনকে ওই জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা জানান, পশ্চিম ইরানে আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানি কুর্দি বিরোধী বাহিনী অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এখন আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।’ তিনি জানান, মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

এর আগে, গত রোববার ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং মিশন অগ্রসর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস। ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিতে চাইলে ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কারণ অস্ত্র পরিবহন এবং ইরাকি কুর্দিস্তানকে উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি তাদেরই দিতে হবে।

আলোচনায় থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা হলো কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে তাদের ব্যস্ত রাখবে। এতে বড় শহরগুলোতে নিরস্ত্র ইরানিরা যেন জানুয়ারির অস্থিরতার সময়ের মতো আবারও গণহত্যার শিকার না হয়ে রাস্তায় নামতে পারে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কুর্দিরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে এবং ইরানি শাসনের সামরিক সম্পদকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করতে পারে। অন্য কিছু ধারণায় বলা হচ্ছে, ইরানের উত্তরে কুর্দিরা ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখতে পারলে ইসরায়েলের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি হতে পারে।

এ প্রতিবেদন নিয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারা আমলে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটসাস বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ইরানে শাসন উৎখাতের প্রক্রিয়াকে ‘শুরু করে দিতে’ চাইছে। কুর্দিরা ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র।

তিনি বলেন, ‘ইরানের সাধারণ মানুষ মোটের ওপর নিরস্ত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভেঙে না পড়লে তাদের পক্ষে ক্ষমতা দখল করা কঠিন, যদি না কেউ তাদের অস্ত্র দেয়। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এটি ইরানের মাটিতে অন্যদেরও একই পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করবে।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা জেন গাভিতো বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের দুই পাশেই আমরা ইতিমধ্যে অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে পারে এবং জবাবদিহিহীন সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ক্ষমতায়িত করতে পারে, যার পরিণতি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়।’

একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানি সামরিক ও পুলিশ চৌকিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। আংশিকভাবে উত্তর-পশ্চিম ইরানে কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য প্রবেশের পথ সুগম করতেই এসব হামলা। এক ইসরায়েলি সূত্র বলেছে, আগামী দিনগুলোতে এসব হামলা আরও জোরদার হতে পারে। তবে ইরানি শাসনকে হটাতে কুর্দি স্থলবাহিনীকে সহায়তা দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন বিস্তৃত হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ধারাবাহিকভাবে বলছে, ইরানি কুর্দিদের কাছে বর্তমানে সফল গণঅভ্যুত্থান জোরদার করার মতো প্রভাব বা সম্পদ নেই। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কোনো প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে ইরানি কুর্দি দলগুলো।

কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, মতাদর্শগত পার্থক্য ও ভিন্ন এজেন্ডা আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, যারা এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রয়োজনীয় আস্থার মাত্রা বিবেচনায় এই সম্পর্ক এখন ঝুঁকিতে পড়তে পারে কি না।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকানরা কোনো প্রক্সি বাহিনীকে নিজেদের হয়ে লড়তে রাজি করালেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এত সহজ নাও হতে পারে। এখানে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ভাবছে। প্রশ্ন হলো, তাদের জড়ানো তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।’

কুর্দিরা একটি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। বর্তমানে বিশ্বে আনুমানিক আড়াই থেকে ৩ কোটি কুর্দি রয়েছে। তারা প্রধানত তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে বসবাস করে। অধিকাংশ কুর্দি সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বৈচিত্র্যময়। তাদের বিভিন্ন উপভাষাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কুর্দি বাহিনী যে হতাশা অনুভব করেছে, তা গভীর। তারা প্রায়ই অভিযোগ করেছে, আমেরিকানরা তাদের মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছে।

প্লিটসাস বলেন, ‘অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে, কুর্দিদের পরিত্যাগের ন্যারেটিভটি আরও জোরালো হবে—এমন উদ্বেগ রয়েছে।’ ট্রাম্পের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস তাঁর প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি এটিকে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি মিত্রদের অগ্রহণযোগ্যভাবে পরিত্যাগ হিসেবে দেখেছিলেন।

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার অংশ হিসেবে ইরাকি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাস রয়েছে সিআইএর। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানান, বর্তমানে ইরানের সীমান্তের কাছে ইরাকি কুর্দিস্তানে সিআইএর একটি ঘাঁটি রয়েছে। ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেটও আছে। আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মার্কিন ও জোট বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজের বিনিময়ে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল স্বাধীনতা পাবে—এমন আশা অনেক কুর্দির ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুর্দি বাহিনীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ছিল উত্তর সিরিয়ায় অস্থায়ী কারাগার শিবিরে আটক হাজারো আইএস সদস্যকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব।

তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন সিরীয় সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্রুত সামরিক অভিযান চালায়। এতে আইএসের বিরুদ্ধে হামলা এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে হটানোর পদক্ষেপও ছিল। সেই অভিযানের মুখে এবং মার্কিন বাহিনী দেশ ছাড়ার পর কুর্দি বাহিনী কারাগারগুলো খালি করে এবং আইএস বন্দিদের পাহারা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। জানুয়ারিতে সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম বারাক বলেন, এসডিএফের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোটের উদ্দেশ্য ‘মূলত শেষ হয়ে গেছে।’

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)