আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ইরান। মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি আজ সকালে নিশ্চিত করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানে ইরান একের পর এক প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার দিনের আলোতে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির বাসভবন ও প্রশাসনিক কার্যালয় লক্ষ্য করে এই 'প্রিসিশন স্ট্রাইক' চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পৃথক বিবৃতিতে এই অভিযানের সাফল্য দাবি করেছেন। ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি 'ডেকাপিিটেশন স্ট্রাইক' ছিল যার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। হামলায় খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইরান 'অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ-৪' (Operation Truthful Promise 4) ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "এই জঘন্য অপরাধের বদলা এমনভাবে নেওয়া হবে যা বিশ্ব কখনো দেখেনি।"
ইরান থেকে কয়েকশ ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। অনেক মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও বেশ কিছু মিসাইল জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে।
কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো একযোগে হামলা শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুবাই বিমানবন্দর এবং বুর্জ আল আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামী ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তেহরানের এঙ্গেল্যাব স্কয়ারসহ বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা "আমেরিকা নিপাত যাক" এবং "ইসরায়েল নিপাত যাক" স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত করছে। তবে এর বিপরীতে কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে উল্লাসের খবরও পাওয়া গেছে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমানে একটি সাময়িক কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস' কাজ শুরু করলেও যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী বা আইআরজিসি ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।