ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সহিংসতা সীমান্ত ছাড়িয়ে বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ‘সংলাপ সহজ’ করার উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পাকিস্তান শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বোমা হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।’
মাও নিং আরও বলেন, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাশিয়াও দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের
এদিকে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ’ আয়োজনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ প্রস্তাব দেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগেও যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছিল, সেই সময়ও একই প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান।
আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের
চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক আলাদা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অন্যদিকে, তুর্ক দুই দেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান সেনারা হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ‘সংলাপ সহজ’ করার উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বার্তা দিয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগেও যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছিল, সেই সময়ও একই প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা দিয়ে দেশটির রাজধানী কাবুলের পাশাপাশি কান্দাহার ও পাকতিকা এলাকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আসিফ জানান, তারা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে নেমেছেন। কারণ, ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, এখন প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তালেবান আফগান জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। উল্টো তারা আফগানিস্তানকে ভারতের কলোনি করে তুলেছে এবং সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, তাদের সেনারা আফগান আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবে।
এক্সে একাধিক পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, পুরো দেশ সেনাদের পাশে আছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ অপারেশন চালাচ্ছে। কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়ায় সামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হয়েছে। কাবুলে দুটি ও কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি জানান, পাকিস্তান ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করেছে।
৮০টার বেশি কামান ধ্বংস করেছে, নয়জন তালেবান সেনাকে আটক করা হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানান, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাবেই এ আক্রমণ।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, দেশের বিদ্রোহী ও পাক সেনাদের আক্রমণের পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সেনা ঘাঁটির ওপর আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। এই আক্রমণ ডুরান্ড লাইন বরাবর হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দুই হাজার ৬১১ কিলোমিটারের সীমান্তই ডুরান্ড লাইন।