Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি জন্য ট্রাম্প ১০ দিন সময় দিলেন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি জন্য ট্রাম্প ১০ দিন সময় দিলেন

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় “ভালো অগ্রগতি” হয়েছে এবং একটি চুক্তির জন্য “মূল নীতিমালায় বিস্তৃত সমঝোতা” হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র আরব সাগরে অবস্থান করছে |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য “আরো ১০ থেকে ১৫ দিন” সময় আছে। এর মধ্যে অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ( ১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ গাজার বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাই গাজায় যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করেছিল। তার ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না।

“আমাদের হয়তো আরো এক ধাপ এগোতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তি করব। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে,” বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় “ভালো অগ্রগতি” হয়েছে এবং একটি চুক্তির জন্য “মূল নীতিমালায় বিস্তৃত সমঝোতা” হয়েছে।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিতের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে এবং কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় আনতে রাজি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের যেকোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। পাশাপাশি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন—যা তেহরান “অ-আলোচনাযোগ্য প্রতিরক্ষা নীতি” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হুঁশিয়ারি ও পাল্টা হুঁশিয়ারি

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তার কূটনৈতিক উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে “খুব ভালো বৈঠক” করেছেন। “আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, নাহলে খারাপ কিছু ঘটবে,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “আমেরিকানরা বারবার বলে যে তারা ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম। কিন্তু সেই জাহাজকে সাগরের তলদেশে পাঠাতে পারে—এমন অস্ত্র আরো বেশি বিপজ্জনক।”

২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ডিসেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা হলে আবার হামলার হুঁশিয়ারি দেন।

গত মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান ভিন্নমতাবলম্বীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে জুনের যুদ্ধের পর প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পেয়েছিল।

চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে হুমকি-পাল্টা হুমকি অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)