Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পরাজয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের নির্বাচন আজ

ধ্রুব নিউজ ধ্রুব নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:২৫ এ এম
পরাজয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের নির্বাচন আজ

আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টানা ক্ষমতার অবসান ঘটবে, নাকি দেশটি আবারও এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে তলিয়ে যাবে—সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের পর দেশটিতে এটিই প্রথম নির্বাচন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একের পর এক সরকারের পতন ঘটলেও, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভোটের মাঠের চিত্র
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের প্রয়োজন। এতে আসন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে ৩৭টি দল ও জোট।

মোট ভোটার: প্রায় ৭৩ লাখ (যার মধ্যে ১২ লাখের বেশি ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি নাগরিক)।
ভোটকেন্দ্র: দেশজুড়ে ১২,০১৮টি কেন্দ্রে প্রায় ১৮,০০০ ব্যালট বাক্সে ভোট নেওয়া হচ্ছে।
সময়সূচি: সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনী দিন উপলক্ষে দেশটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোট পদ্ধতি: সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার কারণে ভোটাররা ব্যক্তির বদলে দলকে ভোট দেন। পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে প্রতিটি দলকে ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না বলে জোট গঠনই এখানে সরকারপ্রধান নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।
জরিপে এগিয়ে আইজেনকোট, ব্যাকফুটে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধান তিনটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের চূড়ান্ত জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ‘য়াশার’ পার্টি নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ’ পার্টির চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

য়াশার পার্টি (আইজেনকোট): ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে।
লিকুদ পার্টি (নেতানিয়াহু): ১৯ থেকে ২১টি আসন পেতে পারে।
‘বিয়াহাদ’ জোট (নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ): ১৪ বা ১৫টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন দলগুলো: যৌথভাবে ১৪ থেকে ১৬টি আসন জিততে পারে।
জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট সর্বমোট ৫০টি আসন পেতে পারে, আর বিরোধী জোট পেতে পারে ৫২ থেকে ৫৬টি আসন। অর্থাৎ, কোনো পক্ষই সরাসরি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাচ্ছে না। ফলে সর্বাধিক আসন পেলেই কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না; প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আলোচনা সাপেক্ষে যাকে সম্ভাবনা বেশি দেখবেন, তাকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।

অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন লড়াইয়ে নেতানিয়াহু
তিনটি মেয়াদে ১৮ বছর ক্ষমতায় থাকা ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এবার মূলত রাজনৈতিক টিকিয়ে রাখার লড়াই লড়ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিজ্ঞতাকে তিনি প্রচারণার হাতিয়ার করলেও ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গাজা যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি-ঘুষের মামলায় তিনি প্রবল সমালোচনার মুখে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।

নেতানিয়াহুর সাথে অতি-ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ ছাড়াও অতি-অর্থোডক্স ‘শাস’ ও ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ পার্টি জোটবদ্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধে সেনা সংকট থাকা সত্ত্বেও অতি-অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার দাবিতে সরকারের ভেতরে-বাইরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিকল্প মুখ আইজেনকোট: পরিবর্তন বনাম নিরাপত্তা নীতি
৬৬ বছর বয়সী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর জরুরি সরকারে থাকলেও পরবর্তীতে নীতিগত পার্থক্যের কারণে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে তার নিজের ছেলেও নিহত হন।

তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্থাসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও মূল নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতানিয়াহুর মতোই কঠোর। তিনিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধী এবং গাজায় হামাসের সামরিক অস্তিত্ব পুরোপুরি ধ্বংস করার পক্ষে। ফলে এই নির্বাচন মূল নীতিগত পরিবর্তনের চেয়ে মূলত শাসনব্যবস্থা ও অতি-ডানপন্থীদের প্রভাবমুক্ত করার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্ণায়ক ভূমিকায় আরব দলগুলো
কোনো প্রধান জোটই ৬১ আসনের মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারলে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দুটি দল—‘জয়েন্ট লিস্ট’ (আনুমানিক ৯টি আসন) এবং ‘রাম’ (আনুমানিক ৫–৭টি আসন) ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আইজেনকোট সরকার গঠনে তাদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে, যা ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক বড় ধরনের জটিলতা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সম্ভাব্য পরিণতি ও পরবর্তী ধাপ
১. নেতানিয়াহু জোট: অন্য শিবিরের দল ভাঙাতে পারলে নেতানিয়াহু পুনরায় সরকার গঠন করবেন। ২. আইজেনকোট জোট: ফিলিস্তিনি দলগুলোর বাহ্যিক সমর্থন বা বিরোধী দলগুলোর কঠিন দরকষাকষির ওপর ভিত্তি করে জোট তৈরি হবে। ৩. জাতীয় ঐক্য সরকার: প্রধান বিরোধী দল ও লিকুদ পার্টির যৌথ সরকার (যদিও আইজেনকোট নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন)। ৪. নতুন নির্বাচন: কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং দেশ আবারও নতুন নির্বাচনের মুখে পড়বে।

আজ রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেই এক্সিট পোল এবং প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে বিশেষ ব্যালট গণনার কারণে চূড়ান্ত অফিসিয়াল ফলাফল প্রকাশ পেতে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর পরেই শুরু হবে কয়েক সপ্তাহের টানা সরকার গঠনের দরকষাকষি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)