বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ কেউ ভোলেনা, কেউ ভোলে

নীলরতন ধর : ভারতে ভৌত রসায়নের পথিকৃৎ

হাবিবুর রহমান সিজার হাবিবুর রহমান সিজার
প্রকাশ : শনিবার, ১০ জানুয়ারি,২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারি,২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
নীলরতন ধর : ভারতে ভৌত রসায়নের পথিকৃৎ

ছবি: ধ্রুব নিউজ গ্রাফিক্স

১৯১৩ সাল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক জনের নামই বার বার ঘোষিত হচ্ছে স্বর্ণপদক প্রাপক হিসাবে। দেখা গেল মোট ২০টি স্বর্ণপদক তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কারণে। সে বছর, এম এ ও এম এসসি ছাত্রদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কেমিস্ট্রি নিয়ে প্রথম বিভাগে প্রথম হন। ২০টি স্বর্ণপদক ছাড়াও গবেষণার জন্য মাসিক একশো টাকা বৃত্তি ও অত্যন্ত সম্মানজনক ‘গ্রিফিথ মেমোরিয়াল' পুরস্কারও পান।

সেই ছাত্রের নাম নীলরতন ধর। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রিয় ছাত্র ও পরবর্তী কালে সম্মাননীয় বিজ্ঞানী। ভারতে ‘ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি’ বা ভৌত রসায়নের প্রবর্তক তিনিই। এ ছাড়া সয়েল কেমিস্ট্রিতে নীলরতন ধরের অবদান সারা বিশ্বে স্বীকৃত। নীলরতন ধর (২ জানুয়ারি ১৮৯২ — ৫ ডিসেম্বর ১৯৮৬) ছিলেন ভৌতরসায়ন ক্ষেত্রের একজন বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী। প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছিলেন স্টেট ডক্টরেট, যখন এই ডিগ্রি বিদেশিদের দেওয়া হত না।
মাটির রসায়ন নির্ণয়ে ছিলেন প্রবাদপ্রতিম, ভারতে ভৌত রসায়নবিদ্যার জনক বলে পরিচিত নীলরতন ধর। তিনি ‘ফটোকেমিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন’ আবিষ্কার করার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া তিনিই ভারতে প্রথম ভৌত-রসায়নচর্চা নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণা শুরু করেন।

২.
ড. শান্তিস্বরূপ ভাটনগর তার সম্পর্কে বলেছেন " ড. ধর ইজ দ্য ফাউন্ডার অফ ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি ইন ইন্ডিয়া" আক্ষরিক অর্থেই তিনি ছিলেন প্রবাদপ্রতিম মাটির রসায়ন নির্ণয়ে । ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন অগ্রজ ড. জীবনরতন ধর। অনুজ ড. নীলরতন ধর চেয়েছিলেন কম ব্যয়ে নিজ দেশে একটি কৃষি বিপ্লব হোক। পরাধীন ভারতের বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অন্যতম মানসপুত্র ড. নীলরতন ধর বলতেন "বিজ্ঞানের সেবা, মানুষের উপকার করা ও সর্বসাধারণের জন্য বিজ্ঞান প্রসার করা বৈজ্ঞানিকের ধর্ম।"

হ্যাঁ, অবশ্যই বলতে হবে অধ্যাপক ধর নিজের গবেষণাকে শুধুমাত্র কাগজ কলম আর ল্যাবে রেখে যাননি বরং আমজনতার জন্য ছুটেছেন তাদের কাছে। ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ছুটে গিয়েছেন তাদের কাছে। একটা সময় ছিল যখন এলাহাবাদে অনেক পতিত জমিতে চাষবাস কিছুই হত না। ড. ধর মাটি পরীক্ষা করে দেখলেন, তা অতিরিক্ত ক্ষারীয়। চিনিকল থেকে যে সব উপজাত বস্তু পাওয়া যায়, যেমন মোলাসেস ও প্রেস-মাড, তা অন্যান্য জৈবপদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে তিনি জমিতে ব্যবহার করতে বললেন। উত্তরপ্রদেশে চিনিকল থাকায় এগুলি সহজলভ্যও ছিল। কিছু দিনের মধ্যেই জমি উর্বর হল।

নিজে হয়ত নোবেল পাননি কিন্তু বেশ কয়েকবার অভিজাত নোবেল কমিটির নির্বাচকের পদ অলঙ্কৃত করেছেন। নীলরতন ধরই প্রথম এবং একমাত্র ভারতীয় রাসায়নিক, যিনি লন্ডনের বোর্ড অব এডুকেশনের বিশেষ সুপারিশে ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস চাকরী পান। দেশ-বিদেশের একাধিক সায়েন্স অ্যাকাডেমির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন নীল রতন ধর। তাছাড়া নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এলাহাবাদে প্রতিষ্ঠা করেন একটি মৃত্তিকা গবেষণাকেন্দ্র যার বর্তমান নাম ‘শীলা ধর ইনস্টিটিউট অফ সয়েল’।

৩.
নীলরতন ধরের জন্ম বাংলাদেশের যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহর নগর ইউনিয়নের যোলখাদা নামক গ্রামে ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ২রা জানুয়ারি। পিতা আইনজীবী প্রসন্নকুমার ধর। পিতামহ প্রেমচাঁদ ধর। মাতা ছিলেন যশোরের ফতেপুর জমিদার কুঞ্জবিহারী ঘোষের কন্যা নিরোদমোহিনী দেবী। নীলরতন ধরের পিতৃদেব প্রসন্নকুমার যশোর শহরের আইনজীবী, মনে প্রাণে স্বদেশী, আদালতে বাংলায় সওয়াল করতেন। প্রসন্নকুমারের ছয় পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে নীলরতন ছিলেন তৃতীয়। তাঁর বড় দাদা অমূল্যরতন ছিলেন বিখ্যাত উকিল; মেজ দাদা জীবন রতন ছিলেন জনপ্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ, যিনি বিধান রায়ের মন্ত্রীসভায় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। প্রসন্নরতন ও নির্মলরতন যথাক্রমে ঔষধ প্রস্তুতকারক ও সরকারি চাকুরে এবং ডাঃ দুর্গারতন ধর এম.আর.সি.পি ছিলেন।

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে পাঁচ বৎসর বয়সে স্থানীয় যশোর সরকারি জেলা স্কুলে পড়াশোনা শুরু হয়। নীলরতন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শিক্ষা জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বস্তরেই প্রথম। স্কুলে পড়াশোনা করার সময় থেকেই তিনি উচ্চশ্রেণির ছাত্রদের জন্য ইংরাজি, সংস্কৃত, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে নানা প্রবন্ধ লিখে দিতেন।

পনেরো বছর বয়সে এনট্রান্স পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশনে বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। স্কুলের পড়া শেষ করে কলকাতায় রিপন কলেজে ভর্তি হন ।

১৯০৯ সালে নীলরতন বৃত্তি নিয়ে আই এসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ও প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন। নীলরতন ইডেন হিন্দু হস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন। কলকাতায় তিনি ড.রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে একসাথে হিন্দু হোস্টেলে থাকতেন। কলকাতার রিপন কলেজে নীলরতন ধরের নেতৃত্বে সব ছাত্ররা মিলে একটা ছোট ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা করেছিল। সেখানে নীলরতন সিলভার নাইট্রেট ও গোল্ড ক্লোরাইডের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করান। এই ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানের নানা রকমের গবেষণাগুলি হাতেকলমে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল। এইসময় তিনি মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দা কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’-এ (Indian Association for the Cultivation of Science) নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতা শুনতে যেতেন।

১৯১১ সালে নীলরতন স্নাতক হন, প্রথম স্থান পেয়ে স্বর্ণপদক ও বৃত্তি লাভ করেন। এর পর প্রেসিডেন্সি কলেজে এম এসসি পড়তে পড়তে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ‘নাইট্রাইট’ বিষয়ে গবেষণায় যুক্ত হন। মজার বিষয় হল এমএসসি পাশের আগেই তিনি গবেষক, প্রফুল্লচন্দ্র নাইট্রাইটের ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণের উপর গবেষণা করছিলেন। তিনি কিছুটা দায়িত্ব ছাত্র নীলরতনের উপর ছাড়লেন। এইসময়ই তিনি ভৌত রসায়ন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি এমএসসি পড়ার সময়ই প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে নাইট্রাইট বিষয়ের উপর গবেষণা শুরু করেন এবং প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে যৌথভাবে চারটি ও স্বতন্ত্র ভাবে চোদ্দটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অন্যতম প্রিয় ছাত্র। মেধাবী ছাত্র নীলরতন ধর নিজের শিক্ষাজীবনে অনেক বৃত্তি ও স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। দুজনে মিলে কিছু গবেষণাপত্র লিখলেন প্রকাশিত হল দেশ-বিদেশের পত্রিকায়। এই গবেষণা ড. ধরকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

৪.
প্রফুল্লচন্দ্রের ‘আত্মচরিত’ গ্রন্থে আমরা পাই: “লন্ডনে থাকিবার সময় আমি এমোনিয়াম নাইট্রাইট সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ পাঠ করি। তাহাতে রসায়নজগতে একটু চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইংলান্ডে আসিবার পূর্ব্বে কলিকাতায় থাকিতেই এ বিষয়ে গবেষণা করিয়া আমি সাফল্য লাভ করি। সৌভাগ্যক্রমে নীলরতন ধর আমার সহযোগিতা করেন এবং তিনকড়ি দে নামক আর একটি যুবকও আমার সঙ্গে ছিলেন।” ছাত্রাবস্থাতেই নীলরতন ধর, ১৯১২ ও ১৯১৩ এই দু’বছরে ১৬টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যার মধ্যে চারটি গবেষণাপত্র প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে। ১৯১৩ সালে নীলরতন এম এসসি পাশ করেন। রসায়নে প্রথম বিভাগে প্রথম হন। এম.এসসি. তে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড নম্বর পেয়ে কুড়িটি স্বর্ণ পদক, গ্রিফিথ পুরস্কার ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রদত্ত পুরস্কার লাভ করেন।

৫.
ছাত্রজীবনে বিশেষত প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন জিতেন্দ্রমোহন সেন,অমিয়চরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একটু নীচের ক্লাসে পড়তেন মেঘনাদ সাহা,জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ,জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঘোষ। আমৃত্যু তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি পড়ার সময় ভারতীয় বিজ্ঞানের দুই দিকপাল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর সান্নিধ্যে আসেন। নীলরতন ধর ছিলেন মেঘনাদ সাহা এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসুর দুই বছরের বড়। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তিনি ও মেঘনাদ সাহা একই হিন্দু হোস্টেলে থাকতেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিদেশে পড়ার জন্য ‘স্টেট স্কলারশিপ’ পান। যুদ্ধের কারণে সবাই বারণ করলেও নীলরতন কারও বারণ না শুনেই লন্ডন যান। সেখানে ‘ইম্পিরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (Imperial College Of Science And Technology)--তে প্রফেসর জে সি ফিলিপ (J.C.Phillips)--এর ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে নীলরতন ধর স্বাধীনভাবে গবেষণা শুরু করেছিলেন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে স্টেট স্কলারশিপ পেয়ে বিলেত যান। ১৯১৭ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি এসসি উপাধি পেয়েছিলেন। তাঁর থিসিসটি এত উচ্চ মানের হয়েছিল যে, তাঁকে মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়নি। এর পর তিনি তিনি ফ্রান্সে সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Sorbonne University) প্রফেসর জর্জেস আরবাইনের (Georges Urbain) -এর কাছে কাজ শুরু করেন এবং ১৯১৯ সালে সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্যারিসের সর্বোচ্চ ‘স্টেট ডক্টরেট ডিগ্রি’ লাভ করেন। সাধারণত কোনও বিদেশিকে এই ডিগ্রি দেওয়া হত না, কিন্তু তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য এই ডিগ্রি দেওয়া হয়েছিল তাকে।

৬.

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন হতে দেশে ফিরলে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে পাঁচ জায়গায় চাকরির অফার করলে তিনি ‘ইন্ডিয়ান এডুকেশনাল সার্ভিস’-এর মাধ্যমে এলাহাবাদ মুরি সেন্ট্রাল কলেজের (বর্তমানে এটি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত) অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। এই কলেজে তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্রদের রসায়নবিদ্যা পড়াতেন। সেখানে প্রায় কুড়ি বছর তিনি রসায়ন বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাঁর চাকুরী জীবনে যা আয় করেছেন, তার সবটাই তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছনে ব্যয় করেছেন। যশোরের প্রতিষ্ঠিত মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়েও তিনি অর্থ দান করেছেন। ১৯১৯ সালের পর তিনি ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্রদের এমএসসি পড়ার ব্যবস্থা করেন, এর আগে ওই কলেজের ছাত্রদের এমএসসি সম্পূর্ণ করার কোনো সুযোগ ছিল না।

১৯২৬ সালে ছ’মাসের ‘স্টাডি লিভ’ নিয়ে তিনি ইংল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। সে সময় বার্লিনের বিখ্যাত ‘ফিজিকো-কেমিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রোকেমিক্যাল ইনস্টিটিউট’ পরিদর্শন করেন। তখন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী প্রফেসর ফ্রিৎজ হেবার ছিলেন ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা। বিজ্ঞানী নীলরতন ধর যে ভারতে প্রথম ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রির প্রবর্তন করেন, সে কথার উল্লেখ প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘আত্মচরিত’ গ্রন্থে পাওয়া যায় ‘১৯১০ সালে ‘ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি’ বৈজ্ঞানিক জগতে স্থায়ী আসন লাভ করিল। কিন্তু ১৯০০ সাল পর্য্যন্ত ইংলন্ডেও এই বিজ্ঞানের জন্য কোন স্বতন্ত্র অধ্যাপক ছিল না। ভারতে এই বিজ্ঞানের অনুশীলন ও অধ্যাপনার প্রবর্ত্তক হিসাবে নীলরতন ধরই গৌরবের অধিকারী। তিনি কেবল নিজেই এই বিজ্ঞানের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন নাই, জে. সি. ঘোষ, জে. এন. মুখার্জ্জী এবং আরো কয়েকজনকে তিনি ইহার জন্য অনুপ্রাণিত করেন।”

১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালে ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’-এ সভাপতির ভাষণে নীলরতন ধর তাঁর আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্য যা ‘ফোটোকেমিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন’ (photochemical nitrogen fixation) নামে বিখ্যাত, তা ব্যাখ্যা করেন। ক্যালশিয়াম ফসফেটের উপস্থিতিতে জৈব সার কী ভাবে সূর্যালোকের সাহায্যে বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটির সঙ্গে যুক্ত করে ও গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়, তা ব্যাখ্যা করেন। এর আগে মাটিতে পশুর মল ও অন্যান্য জৈব পদার্থ দিলেও সেগুলি কীভাবে কাজ করে তা জানা ছিল না। তিনিই প্রথম এই নাইট্রোজেন চক্রের ব্যাখা দেন। তিনি দেখান যে ক্যালশিয়াম ফসফেটের উপস্থিতিতে জৈব সার কীভাবে সূর্যের আলোর সাহায্যে বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটির সাথে যুক্ত করে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়া তিনি নিজের এই গবেষণাপত্র নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়েও বক্তৃতা দেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞানের উপর নীলরতন ধরের এই গবেষণাপত্র দেখে ইন্টারন্যাশনাল সয়েল সাইন্স কংগ্রেস এর সভাপতি প্রফেসর ভিক্টর আব্রামোভিচ কোভডা (Viktor Abramovich Kovda) নোবেল পুরস্কারের জন্য নীলরতন ধরের নাম সুপারিশ করেছিলেন।

৭.
তার জীবনের বিখ্যাত কাজ ইনডাক্ট অ্যান্ড ফটোকেমিক্যাল রিঅ্যাকশন (Induced and photochemical reaction). তিনি মাটিতে তাপ এবং আলোক-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন সংযুক্তিকরণ ও সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন। মাটিতে নাইট্রোজেন হ্রাসের ওপর আলোর প্রভাব এবং মাটির নাইট্রোজেন ও ফসফেটের সংযুক্তির মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা করেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, জৈব পদার্থ মাটিতে হিউমাস উপাদান তৈরি করে। বাতাসের সংস্পর্শে জারণ প্রক্রিয়া ধীর করার মাধ্যমে মুক্ত করে শক্তি। ফলে সূর্যালোকের সাহায্যে মাটির পৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন এবং ফসফেটকে যুক্ত করে। এটি প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিডযুক্ত উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করা ছাড়াও স্থিতিশীল যৌগ গঠন করে, যা জারণ প্রক্রিয়ার প্রতিরোধী এবং নাইট্রোজেনের ক্ষতি রোধ করে। তিনি মাটি থেকে নাইট্রোজেন ক্ষয়ের সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেন এবং সার থেকে নাইট্রোজেন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

ভারতে ভৌত রসায়ন বিজ্ঞানচর্চা ও মৃত্তিকা গবেষণাকে জনপ্রিয় করেন তিনিই। তাই অনেকে তাঁকে ‘ভারতীয় ভৌত রসায়নের জনক’ বলেও অভিহিত করেন। নীলরতন ধর নিজের গবেষণার ফলাফলকে কেবলমাত্র ল্যাবরেটরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং তা যাতে সাধারণ মানুষের কাজে লাগে তাও তিনি লক্ষ রাখতেন। তিনি দেখেছিলেন এলাহাবাদের কিছু পতিত জমিতে একেবারে চাষ হয় না। তিনি ওই অঞ্চলের মাটি পরীক্ষা করে দেখেন যে সেই অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত ক্ষারীয়।
চিনিকল থেকে যে সব উপজাত বস্তু পাওয়া যায়, যেমন মোলাসেস ও প্রেস-মাড, তা অন্যান্য জৈবপদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে তিনি জমিতে ব্যবহার করতে বললেন। উত্তরপ্রদেশে চিনিকল থাকায় এগুলি সহজলভ্যও ছিল। ওই মিশ্রণ ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই জমি চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে।
জীবন মাটি দিয়ে ও মানুষ দিয়ে মাখা। তাই মাটির প্রতি তাঁর টান এবং মানুষের প্রতি তাঁর আকর্ষণ। মানুষের দু:খে তাই তিনি দু:খিত। এজন্যই তিনি তিনি অকৃপন হাতে তাঁর অর্জিত অর্থ দান করতে পেরেছেন। এবং এজন্যই বৈজ্ঞানিক নীলরতন ধরকে আখ্যা দেয়া হয় মাটির মানুষ বলে। মাটির মানুষ বৈজ্ঞানিক নীলরতন ধরের প্রধান কাজ ছিল মাটি নিয়ে গবেষণাই । তিনি মাটিকে পরীক্ষা করে মাটি থেকে সংগ্রহ করেছেন সার। মাটির সঙ্গে নিবিড় আত্মীয়তার দরুন তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন মাটির মানুষ। তিনি ছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের ছাত্র। গুরুর কাছ থেকে তিনি কেবল রসায়নের মন্ত্রই গ্রহণ করেন নি, গুরুর কাছ থেকে সাদাসিধে জীবন ধারণের এবং গভীরভাবে মননের মন্ত্রও গ্রহণ করেছিলেন।

৮.
ভারতের এলাহাবাদ শহরের এক প্রান্তে তার বাড়ি ছিল। বাড়ির পাশেই শীলাধর ইন্সটিটিউট অব সয়েল সায়েন্স নামের প্রতিষ্ঠান। এটি তৈরিতে তিনি জমি দান করেছিলেন। তাঁর মৃত পত্মীর নামে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে দিয়েছিলেন। জীবিত থাকতে প্রতি বছর একবার তিনি মুশৌবিতে বেড়াতে যেতেন। সেখানে তাঁর একটি বাড়ি ছিল। বাড়ির নাম ছিল তাঁর পিতার নামে ‘প্রসন্ন কুঠির’।
গবেষক বিজ্ঞানী নীলরতন ধর আমৃত্যু বলে এসেছেন জৈবিক সারের কথা কারণ এই সার মাটিতে নাইট্রোজেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ড.ধরের ভালবাসার গবেষণা হল জৈবসার। ভারতবাসীর খাদ্য নিয়ে তাঁর ভাবনা-চিন্তার অন্ত ছিল না। তিনি চালের সঙ্গে ভারতের মানুষ গম খেতে জোর দিতেন। কারণ চালে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকলেও পুষ্টি ও শক্তির জন্য গমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। সব মিলিয়ে বলা যায় খাদ্য,কৃষি ও নাইট্রোজেন নিয়ে ড. ধরের গবেষণা। দুর্ভাগ্যের বিদেশের উন্নত রাষ্ট্রগুলি নীলরতন ধরের অনেক সুপারিশ মেনে চললেও তাঁর নিজের দেশে সেই সব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি আজীবন গবেষণার কাজে লিপ্ত থেকেছেন। ৯৪ বৎসর বয়সেও তার প্রিয় বিষয় Nitrogen Fixation নিয়ে গবেষণারত ছিলেন।

লন্ডন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিএসসি ও ফ্রান্সের স্টেট ডক্টরাল ছাড়াও কলকাতা, বেনারস, গোরক্ষপুর, বিশ্বভারতী, এলাহাবাদ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে। তিনি ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের নানা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। লন্ডন, কেমব্রিজ, এডিনবার্গ, এবারডীন, সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়েও বক্তৃতা দিতে যাওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হত। এছাড়া ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কোর অনুরোধে তিনি রোমেও বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই বক্তৃতা দিয়েছেন। বিদেশি হলেও ফ্রান্স থেকে স্টেট ডক্টরেট পান। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডক্টরেট এবং এস.এ. হিল ও জি. হিল স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন।
চার বার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং ৩ বার নোবেল পুরস্কার নির্বাচন কমিটিতে ছিলেন। তিনি নিজে নোবেল পুরস্কার না পেলেও তিন বার (১৯৩৮ সাল, ১৯৪৭ সাল ও ১৯৫২ সাল) অভিজাত নোবেল কমিটির রসায়ন বিভাগের নির্বাচক ছিলেন।

৯.
প্রফেসর নীলরতন ধর, এলাহাবাদে ১৯৩৫ সালে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সয়েল সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। তাঁঁর একক প্রচেষ্টায় এবং নিজের উপার্জিত অর্থে ভারতে প্রথম সয়েল কেমিস্ট্রির এই গবেষণাগার তৈরি হয়েছিল। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় পরে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে নীলরতন ধরের প্রথমা স্ত্রী বিজ্ঞানী শীলা ধরের মৃত্যুর পর তার নামাঙ্কিত করে নাম রাখে ‘শীলা ধর ইনস্টিটিউট অব সয়েল সায়েন্স’ (Sheila Dhar Institute of Soil Science)|। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শীলা ধর-ও বিখ্যাত ভৌত-রসায়নবিদ ছিলেন। পরে নীলরতন ধরের অনুরোধে, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ‘এগ্রিকালচার কেমিস্ট্রি’ বিভাগটিকে ওখানে স্থানান্তরিত করে। তিনি সারা জীবনে যা অর্থ উপার্জন করেছেন, তা এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী, চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে দান করে গিয়েছেন।

গবেষণার জন্য তিনি বহু লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৪ লক্ষ টাকা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নামে অধ্যাপক পদ ও ১ লক্ষ টাকা আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে লেকচারার পদ সৃষ্টির জন্য দিয়েছেন। চিত্তরঞ্জন সেবাসদনকে ১ লক্ষ টাকা এবং ৭ বছরের সম্পূর্ণ বেতন তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন।

বিজ্ঞান গবেষণার জন্য বহু অর্থ দান কলেছেন। তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের এক বিরাট অংশ চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, এলাহাবাদ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছিলেন। এছাড়া তিনি মুসৌরির বারলোগঞ্জের বাড়িটি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমকে দান করেছেন।
নীলরতন ধর ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি নিজের ছাত্রদের সিলেবাসের পাশাপাশি বাস্তবে বিজ্ঞানকে কীভাবে প্রয়োগ করতে হয় সেই বিষয়েও পরামর্শ দিতেন। দীর্ঘ ৭০ বছরের কর্মজীবনে তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫০ জন গবেষক ডি এসসি ও ডি ফিল ডিগ্রি পেয়েছিলেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ড. নিত্যগোপাল চ্যাটার্জী, ড. ক্ষিতীশচন্দ্র সেন প্রমুখ বিজ্ঞানী ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

১০.

দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মান লাভ করেছিলেন নীলরতন। নীলরতন ধর ভারতে ও বিদেশের নানা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সভাপতি ছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনি রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ কেমিস্ট্র্রি ফেলো নিযুক্ত হন। লন্ডন কেমিক্যাল সোসাইটির ফেলো। তিনি ‘ইন্ডিয়ান সাইন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি ছিলেন। তারপর তিনি ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি, ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সস’-এর সদস্য, ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের রসায়ন বিভাগের সভাপতি ‘জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি পদে নিযুক্ত হন। এছাড়া তিনি ‘ফ্রেঞ্চ অ্যাকাডেমি অফ এগ্রিকালচার’ -এর একমাত্র বিদেশি সদস্য ছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সোসাইটি অফ বাইওলজিক্যাল কেমিষ্টিসএর সদস্য নিযুক্ত হন। ভারত সরকার তাঁকে 'পদ্মশ্রী' খেতাব দিতে চাইলে তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখান করেন।


১১.
১৯৩০ সালে তিনি শীলা রায়কে বিবাহ করেছিলেন। তিনিও ছিলেন রসায়নবিদ। দুরারোগ্য ক্যানসারে তিনি ১৯৪৯ সালে মারা যান। ১৯৫০ সালে নীলরতন ধর মীরা চট্টোপাধ্যায়কে বিবাহ করেন। অত্যন্ত মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কর্মব্যস্ত জীবন যাপন করে গিয়েছেন।

তার রচিত গ্রন্থসমূহ-

তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলা ও ইংরাজিতে নানান বই লিখেছেন। সারা জীবনে তিনি প্রায় ৬০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ইংরেজিতেই অধিকাংশ বই লিখেছেন। তবে বাংলা ভাষায়ও কিছু বই লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই হলো --
(১) আমাদের খাদ্য
(২) জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপায়
(৩) নিট কনসেপশন ইন বায়ো কেমিস্ট
(৪) ইনফ্লুয়েন্স অব লাইট ইন সাম বায়ো-কেমিক্যাল প্রসেস ইত্যাদি।

পরলোকে

মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত নীলরতন ধর গবেষণা করেছেন। তার জীবনের বিখ্যাত কাজ Induced and photochemical reaction. আজীবন গবেষণার কাজে লিপ্ত থেকেছেন। ৯৪ বৎসর বয়সেও তার প্রিয় বিষয় Nitrogen Fixation নিয়ে গবেষণারত ছিলেন। বিজ্ঞান জগতের এই দিকপাল মনীষী ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ৫ ডিসেম্বর ৯৪ বৎসর বয়সে তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটান। তাঁর মতো বিজ্ঞানী বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেলে, তা হবে বাঙালি জাতিরই অবমাননা।


লেখক: গবেষক, সম্পাদক ও প্রকাশক-আজকের বই পাবলিকেশনস

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)