নিজস্ব প্রতিবেদক
৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ১০ তলাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এ হাসপাতালটির সূচনা হয়েছিল তার মা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে উলাশীতে পৌঁছেই যেন ফিরে গিয়েছিলেন ১৯৭৬ সালের সেই ১ নভেম্বরে। সেদিন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে নিজে কোদাল চালিয়ে বাংলাদেশের প্রথম এই স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ঠিক সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত হাজারো মানুষের মাঝে এক গভীর আবেগ লক্ষ্য করা যায়, যারা পিতার অসমাপ্ত বিপ্লবকে আজ সন্তানের হাত ধরে পূর্ণতা পেতে দেখলেন।
উলাশী থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার সুবিশাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৫ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই প্রকল্পে কেবল ভবন নির্মাণেই ব্যয় হচ্ছে ২৫২ কোটি টাকা। ১০ তলাবিশিষ্ট এই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় তলাতেই থাকছে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সুবিধা, যা রোগীদের ঢাকা বা বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়া কমাবে। চতুর্থ তলায় থাকছে ১১টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ২৫ শয্যার আইসিইউ এবং ২৭ শয্যার সিসিইউ। এছাড়া ৫ থেকে ৯ তলা পর্যন্ত ৪১৭টি সাধারণ শয্যা এবং ১০ম তলায় ৪০টি ভিআইপি কেবিন থাকছে। হাসপাতালের বেজমেন্টে ১০৪টি গাড়ি পার্কিং এবং নিচতলায় জরুরি বিভাগ ও বিশাল ক্যাফেটেরিয়া রাখা হয়েছে। এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসা দুর্ভোগ নিরসন হবে এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সরাসরি গবেষণার সুযোগ পাবে।
মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রামের জন্য যশোর সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁর সফরসূচির আরেকটি ঐতিহাসিক অংশ হিসেবে ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি’ পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি মহাকবি কালিদাসের হাতে লেখা পুঁথিসহ দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক সম্পদগুলো প্রত্যক্ষ করবেন। কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই প্রথম কেউ এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখছেন। দিনের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। পিতার হাতে শুরু হওয়া কৃষি বিপ্লব আর নিজের হাত ধরে আসা আধুনিক উন্নয়নের এই সংযোগস্থল দেখতে আজ পুরো যশোর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকেই লাল-সবুজ আর রঙিন ব্যানারে সেজেছে রাজপথ, আর জনসভাস্থলে ভিড় করছেন লাখো মানুষ।