নিজস্ব প্রতিবেদক
চকরিয়ার তরুণী সাদিয়া সুলতানা ছবি: ধ্রুব নিউজ
পায়ে হেঁটে পুরো বাংলাদেশ দেখার এক রোমাঞ্চকর মিশনে নেমেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার তরুণী সাদিয়া সুলতানা। দেশের রূপ বৈচিত্র্যকে নিজের চোখে দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকে ঘর ছেড়ে রাজপথে নামা এই পর্যটক ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছেন ২৩টি জেলা। গত ১ জানুয়ারি দেশের সর্বউত্তরের প্রান্ত পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া তার এই পদযাত্রা বর্তমানে যশোর জেলায় এসে পৌঁছেছে। মাঝপথে পবিত্র রমজান মাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সাময়িক বিরতি দিলেও লক্ষ্য অর্জনে অটল থেকে আবারো পথে নেমেছেন তিনি। দীর্ঘ এই পথচলার ৪২তম দিনে যশোরে অবস্থানকালে তিনি তার অভিজ্ঞতার ঝুলি উন্মোচন করেন।
ভ্রমণপিপাসু পর্যটক সাদিয়া সুলতানা মূলত পাহাড়ের প্রতি অনুরাগী হলেও দেশের সমতল ভূমি ও জনপদকে কাছ থেকে দেখতেই এই পদযাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় পাহাড়ে কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, পাহাড়ের চেয়ে সমতলে পথ চলা অনেকটাই সহজ। তার এই সফরের মূল স্লোগান ‘চলো দেশটা ঘুরি’। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নিবিড়ভাবে জানার চেষ্টা করছেন। কক্সবাজার থেকে আসা এই সাহসী তরুণীর গন্তব্য এখন দেশের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত টেকনাফ।
একজন নারীর জন্য একা পুরো দেশ ভ্রমণ করাটা চ্যালেঞ্জিং হলেও দমে যাননি পর্যটক সাদিয়া সুলতানা। শুরুতে রক্ষণশীল পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক বাধা এলেও ভ্রমণ খাতের সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে যুক্ত থাকার সুবাদে ধীরে ধীরে পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার পরিবার তাকে উৎসাহ দিচ্ছে। যাত্রাপথে লালমনিরহাটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও দেশের সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে অপরিচিত মানুষেরা স্বপ্রণোদিত হয়ে তার থাকা ও খাওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছেন। যশোরেও তিনি বর্তমানে এক মায়ের স্নেহে ও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। তার মতে, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষই অত্যন্ত ভালো এবং সহযোগিতামূলক মানসিকতার।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যটক সাদিয়া সুলতানা জানান, তিনি সবসময় ভিন্নধর্মী কাজ করতে পছন্দ করেন। সমতলের মানুষের জীবনযাত্রা ও বাংলার প্রকৃত রূপ অনুভবের পাশাপাশি তিনি এই অর্জিত অভিজ্ঞতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান। নিজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত সচেতন। প্রতিটি জেলায় অবস্থানকালে তিনি হয় কোনো পরিবারের সঙ্গে অথবা নারী হোস্টেলে থাকছেন। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তা অনেকাংশেই নিজের সচেতনতার ওপর নির্ভর করে।
তবে শুধু দেশ ভ্রমণের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় এই তরুণীর স্বপ্ন। পর্যটক সাদিয়া সুলতানার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা। পূর্বসূরীদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজেকে হিমালয়ের চূড়ায় দেখার স্বপ্ন বুনছেন। পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাত নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি সিন্ডিকেটমুক্ত ও নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থার, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। পর্যটন খাতে আমূল পরিবর্তন এলে দেশের রাজস্ব বাড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই পদযাত্রার মাধ্যমে তিনি মূলত দেশপ্রেম ও সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।