Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বাড়ি বন্ধক রেখে ডায়ানার পোশাক সংগ্রহ

ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর,২০২৬, ০৯:৪৮ এ এম
বাড়ি বন্ধক রেখে ডায়ানার পোশাক সংগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

ডায়ানার সঙ্গে রেনির প্রথম দেখা ১৯৮৩ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্কুলের শিক্ষা সফরে। তখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর। ডায়ানার বিয়ের রূপকথায় মুগ্ধ রেনি ভিড়ের মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন। একপর্যায়ে সহপাঠীদের আড়াল করে ব্যারিকেড পেরিয়ে ডায়ানার কাছে যাওয়ার সময় দেখতে পান, রাজকুমারী একটি ছোট মাটির তৈরি প্লাটিপাস ফেলে গেছেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে বলেছিলেন, এটি হয়তো নিয়তিরই ইঙ্গিত। সেই স্মৃতি আজও তার সংগ্রহের গল্পে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে

প্রিন্সেস ডায়ানার পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের বাড়িও একাধিকবার বন্ধক রেখেছেন রেনি প্ল্যান্ট। স্বামী লিভিনিও স্টুকের সঙ্গে মিলে গত ১২ বছরে তিনি সংগ্রহ করেছেন আট শতাধিক পোশাক, অলংকার ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন। রেনির বিশ্বাস, প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলসের জীবন ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করাই তার দায়িত্ব। এ সংগ্রহ গড়ে তোলার পেছনে যেমন আছে ভাগ্য ও বিশ্বাস, তেমনি আছে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় এবং ব্যক্তিগত ত্যাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যামেলট কিডস প্রিস্কুলের পরিচালক ও মালিক রেনি প্ল্যান্টের সংগ্রাহক হয়ে ওঠার গল্পটা অবশ্য শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। ২০১৩ সালে স্থানীয় একটি পিৎজা রেস্তোরাঁয় বিনিয়োগের কথা ভাবছিলেন এ দম্পতি। তখনই বন্ধু কেভিনের কাছ থেকে খবর পান, নিলাম প্রতিষ্ঠান জুলিয়েনসের কাছে প্রিন্সেস ডায়ানার ছয়টি পোশাক নিলামে উঠছে। বন্ধুর আমন্ত্রণে সেদিন পোশাকগুলো দেখতে গিয়েছিলেন প্ল্যান্ট। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ডায়ানার সঙ্গে রেনির প্রথম দেখা ১৯৮৩ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্কুলের শিক্ষা সফরে। তখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর। ডায়ানার বিয়ের রূপকথায় মুগ্ধ রেনি ভিড়ের মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন। একপর্যায়ে সহপাঠীদের আড়াল করে ব্যারিকেড পেরিয়ে ডায়ানার কাছে যাওয়ার সময় দেখতে পান, রাজকুমারী একটি ছোট মাটির তৈরি প্লাটিপাস ফেলে গেছেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে বলেছিলেন, এটি হয়তো নিয়তিরই ইঙ্গিত। সেই স্মৃতি আজও তার সংগ্রহের গল্পে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে।
 ২০১৮ সালে ডায়ানার মানবিক কাজের আদর্শ অনুসরণকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে ‘দ্য প্রিন্সেস অ্যান্ড দ্য প্লাটিপাস ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন প্ল্যান্ট। তার ভাষায়, ‘ডায়ানার জীবন ও উত্তরাধিকার রক্ষা করা এবং তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই আমার কাজ।’

গত বছর নিলামে ডায়ানার বিখ্যাত ‘কেয়ারিং ড্রেস’ কিনতে ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন তিনি। বেলভিল স্যাসুনের তৈরি উজ্জ্বল ফুলেল নকশার পোশাকটি শিশুদের হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রায়ই পরতেন ডায়ানা। ১৯৮৮ সালে নিজ চোখে ডায়ানাকে পোশাকটি পরতে দেখেছিলেন রেনি প্ল্যান্ট। নিলামে তার বিডার নম্বর ছিল ৩৩৩। এটিকে তিনি ‘অ্যাঞ্জেল নম্বর’ মনে করেন। নিলামের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতার ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পোশাকটি তার হাতেই আসে।

তবে সংগ্রহ গড়তে শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেননি প্ল্যান্ট। ২০১৫ সালে ডায়ানার অ্যাটেলিয়ের ভারসেসের পাথরখচিত একটি গাউন কিনতে বাড়ি পুনরায় বন্ধক রেখে ২ লাখ ডলার ব্যয় করেন। ২০২৫ সালেও একই পথ অনুসরণ করেন। ওই বছর এক দিনেই ডায়ানার ৩৫টি পোশাক ও সামগ্রী কিনতে তাদের ব্যয় হয় প্রায় ১৯ লাখ ডলার। এর মধ্যে ছিল মধুচন্দ্রিমায় পরা পিচ রঙের উটপাখির পালকের টুপি, যার দাম পড়ে ২৬ হাজার ডলার।

ডায়ানার স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে নিজের প্রথম প্রদর্শনী আয়োজন করছেন রেনি প্ল্যান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামে আগামীকাল শুরু হচ্ছে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়ানা: লাভ, লাইফ অ্যান্ড লিগ্যাসি—আ লাইফ অব গিভিং’ শীর্ষক প্রদর্শনী। শৈশব থেকে ১৯৯৭ সালে ডায়ানার অকালমৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে এতে। থাকছে ব্যক্তিগত চিঠি, শৈশবের পোশাক, ভয়েস মেমো রেকর্ডার, প্রিয় সংগীতশিল্পীদের রেকর্ড এবং অসংখ্য গাউন।

প্রদর্শনীর প্রায় সব সামগ্রীই রেনি প্ল্যান্টের নিজের সংগ্রহের। তবে ১৯৮৫ সালে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের দেয়া নৈশভোজে অভিনেতা জন ট্রাভোল্টার সঙ্গে নাচের সময় ডায়ানার পরা কালো ভেলভেটের গাউনটি ধার করতে হয়েছে।

এদিকে আগামী ৫ ডিসেম্বর নিলামে উঠছে ডায়ানার বিখ্যাত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাকটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ডলার। কিন্তু বাড়ি বন্ধক রাখার সুযোগ আপাতত না থাকায় এটি কেনা সম্ভব হচ্ছে না রেনি প্ল্যান্টের। তার আক্ষেপ, ‘সব পোশাক আবার এক জায়গায় ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য। কিনতে না পারলে সত্যিই মন ভেঙে যায়।’

তবে প্রদর্শনীতে থাকছে ডায়ানার জীবনের শেষ দিকে তৈরি করা আরেকটি কালো গাউন। ডিজাইনার জ্যাক আজাগুরির তৈরি পোশাকটি মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও পরিমাপ করে দেখেছিলেন ডায়ানা। মোট ছয়বার এর জন্য ফিটিং করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পরা হয়নি। পোশাকটির পেছনে এখনো রয়ে গেছে দর্জির লাগানো পিন।

রেনি প্ল্যান্টের ভাষায়, ‘আমি যা করছি, তা আমার নিজের চেয়েও বড় কিছু। আমি যেন কেবল একটি মাধ্যম।’

সূত্র : বণিকবার্তা
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)