Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরের খালগুলো কোথায় গেল?

তহীদ মনি তহীদ মনি
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:৫২ এ এম
আপডেট : সোমবার, ২৬ অক্টোবর,২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
যশোরের খালগুলো কোথায় গেল?

জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যশোরের খাল নদী ছবি: সংগৃহীত

৩১০ কিমি দৈর্ঘ্যের ৩৩২ খাল খাতায়, বাস্তবে অস্তিত্বসংকট; নেই অতীতের কোনো রেকর্ড

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য সম্পদ, পরিবেশের ভারসাম্য ও জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রাণকেন্দ্র যশোর জেলা। সরকারি খাতায় বর্তমানে জেলায় ৩৩২টি খাল নথিভুক্ত রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১০ কিলোমিটার (৩১০.২৫৩ কিমি)। তবে সাধারণ মানুষ ও প্রবীণদের প্রশ্ন—"যশোরের সেই ঐতিহাসিক খালগুলো আসলে কোথায় গেল?" কারণ, কাগজে-কলমে ৩৩২টি খালের হিসাব থাকলেও অতীতে জেলায় প্রকৃতপক্ষে কতগুলো খাল ছিল, সময়ের ব্যবধানে কয়টি ভরাট বা বিলুপ্ত হয়েছে—তার কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিংবা মৎস্য বিভাগের মতো দায়িত্বশীল দপ্তরে।

অতীতের কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান না থাকলেও বর্তমানে টিকিয়ে রাখা খালগুলোই জেলার সেচব্যবস্থা, মৎস্যচাষ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তবে উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও খালের আকৃতিতে রয়েছে বিস্তর তারতম্য। কোথাও মাত্র ২৩ মিটারের অতি ক্ষুদ্র নালানর্দমা আকৃতির প্রবাহ, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ বিল ও নদীঘেরা দীর্ঘ জলপথ।

যশোর শহরের একটি রাস্তা খালধার রোড হিসেবে পরিচিত। নামই বলে দেয় এক সময় খালের পাড়ে বা ধারে ছিল এই রাস্তা। এখন রাস্তা আছে খাল নেই। আদেও খাল ছিল কি? তাও জানে না কেউ।

সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগ
চলতি অক্টোবর মাসে যশোর সদরের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যশোরের সব খাল সংস্কার ও পুনঃখনন করা হবে। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক 'উলাশী-যদুনাথপুর খাল' খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর জেলায় খালের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্তমানে ৩৩২টি খালের একই হিসাব দিলেও, ২০০০ সালে বা ১০–২০ বছর আগে কতগুলো খাল ছিল, তার কোনো পরিসংখ্যান তারা দিতে পারেনি। এমনকি ১৯৭৬-১৯৭৮ সালে যখন দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, তখনকার কোনো নথি বা খালের তালিকাও জেলা প্রশাসন, পাউবো কিংবা জেলা মৎস্য দপ্তরের কাছে সংরক্ষণে নেই। অর্থাৎ গত ২০ থেকে ৩০ বছরে যশোরে কতগুলো খাল নিশ্চিহ্ন হয়েছে, তার কোনো অফিশিয়াল রেকর্ড কোথাও অবশিষ্ট নেই।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মমতাজ বেগমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নথিভুক্ত খালের সংখ্যা ৩৩২টি। এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১০ দশমিক ২৫৩ কিলোমিটার এবং খালগুলো মোট ১ হাজার ৫৪ দশমিক ৮০৪ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত।

স্মৃতির পাতায় যেসব খাল
মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে খাল বিলুপ্তির চিত্র। যশোর শহরের একটি রাস্তা খালধার রোড হিসেবে পরিচিত। নামই বলে দেয় এক সময় খালের পাড়ে বা ধারে ছিল এই রাস্তা। এখন রাস্তা আছে খাল নেই। আদেও খাল ছিল কি? তাও জানে না কেউ।

মণিরামপুরের কপালিয়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ইয়াকুব জানান, বর্তমানে যেটিকে কপালিয়ার বিল বলা হয়, তা প্রায় সারা বছরই পানির নিচে থাকে। তবে তাঁর ছোটবেলায় সেখানে একটি চওড়া খাল ছিল, যেখান দিয়ে বড় বড় নৌকায় ধান বহন করে হাটে-ঘাটে আনা হতো। আজ সে খালের কোনো চিহ্ন নেই। একইভাবে বিল খুকশিয়ার ঐতিহ্যবাহী 'গুড্ডির খাল' পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে, আর তালতলার 'ডাঙ্গির খালটি' এখন আর খুঁজেও পাওয়া যাবে না। কুমোরঘাটা বাজার থেকে কপালিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত জলপথটি আগে খাল/নদী আকারে প্রবাহিত হলেও কপালিয়া বাজারে ওয়াদাবাঁধ নির্মাণের পর সেটি পুরোপুরি মরে যায়; এখন সেখানে কেবল বর্ষাকালে সামান্য পানি জমে থাকে।

একই চিত্র দেখা যায় বসুন্দিয়া জঙ্গলবাঁধাল এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে জঙ্গলবাঁধাল এলাকার নদী থেকে কিফায়েতনগর হয়ে প্রেমবাগ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ খাল খনন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই খালের কোনো ভৌগোলিক অস্তিত্ব নেই, সেটি পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। যশোর সদরের তালবাড়িয়া এলাকার প্রবীণরা জানান, একসময় তাঁরা 'বড় খাল' ও 'দায়তলার খাল' নামে দুটি প্রবাহ দেখেছেন। এর মধ্যে 'বড় খাল'-এর কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই, কেবল দায়তলার খালটি কোনোমতে সজীব আছে। অন্যদিকে গাড়িয়ার বিলে থাকা 'ডাঙ্গির খালটি' এখন সম্পূর্ণরূপে লুপ্ত।

এই বিলুপ্তি শুধু এই কয়েকটি খালের ক্ষেত্রে হয়েছে তা নয়। জেলার প্রতিটি উপজেলায় এই বিলুপ্তির নমুনা আছে। এমন অনেক খাণ আছে যার জমিও ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। অনেক খাল নর্দামায় রূপান্তরিত হয়েছে।

খালের বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যান
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মমতাজ বেগমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নথিভুক্ত খালের সংখ্যা ৩৩২টি। এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১০ দশমিক ২৫৩ কিলোমিটার এবং খালগুলো মোট ১ হাজার ৫৪ দশমিক ৮০৪ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত।

তবে জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যে খালের আলাদা সংখ্যা না থাকলেও এগুলোকে প্লাবনভূমি ও বিলের আওতায় ধরা হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুনের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যশোরে বিল এলাকা ২,৭১০ দশমিক ৩৪ হেক্টর, প্লাবনভূমি ৩৪,৮২৬ দশমিক ৬৪ হেক্টর, বাওড় ১,৭০৯ দশমিক ৪৬ হেক্টর এবং মৌসুমি জলাশয় রয়েছে ১৯,৮৮১ হেক্টর।

এর সাথে ২০২১-২২ অর্থবছরের তথ্য তুলনা করলে দেখা যায়, সে সময় জেলায় বিল ছিল ২,৭১৯ হেক্টর, প্লাবনভূমি ৩৯,৬৭১ হেক্টর, বাওড় ১,৫৯৪ হেক্টর এবং মৌসুমি জলাশয় ছিল ১৫,৮৬৬ হেক্টর। অর্থাৎ গত ৩ বছরের ব্যবধানে জেলায় বিল কমেছে ৯ হেক্টর এবং প্লাবনভূমি কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। বিপরীতে বাওড় বেড়েছে ১১৪ হেক্টর এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টর মৌসুমি জলাশয় বেড়েছে। এই হিসাব থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, প্রাকৃতিক খালের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গিয়ে কৃত্রিম ও স্থায়ী জলাবদ্ধ এলাকার পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খনন কাজ ও বাস্তব অবস্থা
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় ৩২টি খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে, ১৩টি খালের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং খননকৃত খালের মোট দৈর্ঘ্য ৮৩ দশমিক ৯১ কিলোমিটার। তবে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবহৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ৫টি খালের সংস্কারকাজ বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন চালু থাকায় স্থগিত রয়েছে; বর্ষা শেষে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হলে পুনঃখনন কাজ আবার চালু হবে।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ে 'পলাশী খালটির' বাস্তব অস্তিত্ব থাকলেও সিএস/এসএ বা বর্তমান জরিপ অনুসারে খালের জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রেকর্ড হয়ে গেছে। ফলে জমির মালিকরা বাধা দেওয়ায় সরকারিভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পলাশী খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলাভিত্তিক খালের চিত্র ও দীর্ঘতম-ক্ষুদ্রতম খাল
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের খালের তালিকার সঙ্গে তাদের তথ্যের মিল রয়েছে। পাউবোর তথ্যমতে:

·         ক্ষুদ্রতম খাল: জেলার সবচেয়ে ছোট খালটি হলো চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ‘বুড়ি ভৈরব খাল’, যার দৈর্ঘ্য মাত্র ২৩ মিটার। এছাড়া ঝিকরগাছার কামারবাড়ি-কপোতাক্ষ খাল, খাঁ খাল, বেড়াপানি খাল এবং শার্শার ওয়াপদার খালগুলোর প্রতিটিই ৫০ থেকে ৭৩ মিটার দৈর্ঘ্যের অতি ক্ষুদ্র জলাধার।

·         দীর্ঘতম খাল: জেলার দীর্ঘতম খালগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝিকরগাছার 'রামডাঙা-খড়ংদাহ খাল' (যা নবগ্রাম রামকুড়ো খড়ংদাহ বিল পর্যন্ত বিস্তৃত), 'জনাগাজীর খাল', 'বিষহরী-মৌতার খাল', শার্শার 'গাবতলা খাল' (২৬.৮৪ কিমি), যশোর সদরের 'এড়েলের বিল খাল' (২০ কিমি) এবং অভয়নগরের 'হিদিয়া খাল'।

উপজেলাওয়ারী খালের বিন্যাস: খালের সংখ্যার দিক থেকে জেলায় শীর্ষে রয়েছে কেশবপুর (৬৯টি) এবং মণিরামপুর (৬১টি)। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার মধ্যে বাঘারপাড়ায় ৫৪টি, ঝিকরগাছায় ৫০টি, শার্শায় ৩৩টি, চৌগাছায় ২৬টি, অভয়নগরে ২১টি এবং যশোর সদরে ১৮টি খাল বিস্তৃত রয়েছে।

অতীত নথির শূন্যতা
২০৩০ সালের মধ্যে যশোরের সব খাল সংস্কারের যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সে বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, "আমরা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ও নীতি অনুযায়ী পরিকল্পনা জমা দিয়ে থাকি। প্রস্তাবনা পাস হয়ে বাজেট বরাদ্দ এলেই কাজ করতে পাউবো প্রস্তুত।"

তবে অতীতে জেলায় কতগুলো খাল ছিল বা ১৯৭৬-১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির সময় কতগুলো খাল ছিল—সে সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড অফিসিয়াল আর্কাইভে না থাকার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন।

যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার জানান, "সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সব সময়ই প্রস্তুত। ইতোমধ্যে যশোর জেলার নদী ও খালের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে। আগামীতে যে নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত আসবে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।" তবে বিগত ২০ বা ৩০ বছর আগের খালের ঐতিহাসিক তথ্য কেন সংরক্ষিত নেই—এ প্রশ্নের জবাবে তিনিও স্বীকার করেন যে, তৎকালীন সময়ের কোনো লিখিত ডেটা বা রেকর্ড বর্তমান প্রশাসনের কাছে নেই।

স্থানীয়দের আশঙ্কা ও দাবি
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও কৃষকদের মতে, খালগুলো সচল থাকলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজে নদী ও বাওড়ে নেমে যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ খাল হাজা-মজা, পলি পড়ে গভীরতা হারানো এবং অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।

তাঁরা দাবি জানান, শুধু নতুন করে খালের তালিকা করলেই হবে না; যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল দখল করে ভরাট করেছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক খালগুলো উদ্ধার করতে হবে। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে যশোরের খালগুলো মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ভবদহসহ পুরো জেলায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে এবং চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: 'উলশী মডেল' ও জাতীয় খাল খনন বিপ্লব
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় স্তরের দীর্ঘমেয়াদী স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক খাল খনন প্রকল্প। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই খালের খননকাজ শেষ হয় এবং ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

যশোরের এই সফল 'উলশী মডেল'-এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ১৯৭৭ থেকে শুরু করে মূলত ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে সমগ্র দেশজুড়ে ১,৫০০টিরও বেশি খাল খনন ও পুনঃখননের এক বিশাল গণ-কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)