Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শ্রেণিকক্ষ নির্ধারণ করবে শিক্ষার সাফল্য: যশোরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
শ্রেণিকক্ষ নির্ধারণ করবে শিক্ষার সাফল্য: যশোরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ছবি: ধ্রুব নিউজ

শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, "বিগত দিনগুলোতে কেবল ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামোগত বাজেট শেষ করাকেই সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসেছে। এখন থেকে অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে—তা দিয়েই মন্ত্রণালয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত সবার সফলতা বিচার করা হবে।"

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় আয়োজিত "বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা" শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মতিয়ার রহমান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।

কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী জানান, আটকে থাকা সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই পদায়ন শুরু হবে। পিটিআই-তে দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং শেষ করে তারা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে যোগ দেবেন। নতুন নীতিমালায় প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

পাশাপাশি পিএসসির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই পদোন্নতির পর খালি হওয়া আরও ৩০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ আগামী বছরের মধ্যে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ক্রীড়া বিষয়ক টেক্সটবুক চালু করা হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হবে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় হাই স্কুলগুলোর সাথে মাঠ ভাগাভাগি (Shared Use Policy) ও নতুন জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি স্কুলকে সাময়িকভাবে স্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগের সক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) গুলো পুনরায় সচল করা হচ্ছে। দেশের কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারের মনিটরিংয়ের আওতায় এনে সেখানকার শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য চালুকৃত স্কুল ফিডিং প্রজেক্ট (ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি) আগামী বছর সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তাজা রান্না করা পুষ্টিকর খাবার (Freshly Cooked Food) দেওয়ার বিষয়ে একটি নতুন পাইলট প্রজেক্ট গ্রহণের উদ্যোগ চলছে।

বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কমে যাওয়ার কারণেই অভিভাবকরা কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছিলেন। শিক্ষার মান বাড়িয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পুনরায় অভিভাবকদের প্রথম পছন্দে ফিরিয়ে আনা হবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)