ধ্রুব ডেস্ক
পরীক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তির মুখেও গত ১৩ জুলাই টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা বহাল রাখে সরকার। এ নিয়ে পরদিন ১৪ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ১৩ জুলাইয়ে পরীক্ষা আবারও নেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী- ওইদিন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুযোগ পাবেন। এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে পারবেন তারা। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে যদি কারও খারাপ পরীক্ষা হয়, তারাও চাইলে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর কারা পুনঃপরীক্ষা দিতে পারবেন; কীভাবে পরীক্ষায় বসতে আবেদন করতে হবে এবং কবে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা নিয়ে জানতে মরিয়া পরীক্ষার্থীরা। যদিও শিক্ষা বোর্ড বলছে, পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করার আবেদন ও নিয়ম এখনো ঠিক করা হয়নি।
বোর্ড কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পরই বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
ঢাকা বোর্ড সূত্র জানায়, ১৩ জুলাই পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নে পুনঃপরীক্ষা হলে আগ্রহী পরীক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। এ কারণে ওই দুই প্রশ্নের উত্তর না লিখলেও সব পরীক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর পাবেন। আর পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের ৫ নম্বর গ্রেস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানও। অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষা নিয়ে সংসদে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। তখন পরীক্ষার্থীদের সব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা মিলবে।
অন্যদিকে অনেক পরীক্ষার্থীর দাবি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হোক। পরে দুটি পরীক্ষার মধ্যে যেটিতে বেশি নম্বর হবে, সেটির ফলাফলে যোগ করা হোক। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বলেন, সিদ্ধান্ত হলেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।